মঙ্গলবার

৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৪ ভাদ্র, ১৪৩৩

ইয়েমেনের কারাগারে সৌদি হামলার অভিযোগ, নিহত ৭

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:০০

শেয়ার

ইয়েমেনের কারাগারে সৌদি হামলার অভিযোগ, নিহত ৭
ছবি সংগৃহীত

ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলীয় আল-জাওফ প্রদেশের আল-হাজম শহরের একটি কারাগারে সৌদি আরব বিমান হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। তাদের দাবি, হামলায় এক শিশুসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত আরও সাতজন।

হুথি-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল-আসবাহি সোমবার জানান, আল-জাওফ প্রদেশের সেন্ট্রাল কারেকটিভ ফ্যাসিলিটিতে এ হামলা চালানো হয়। কারাগারটি সৌদি আরবের সীমান্তসংলগ্ন ইয়েমেনের অংশে অবস্থিত। আহতদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন।

ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকাজের ভিডিও প্রকাশ

হামলার পরের কিছু দৃশ্য প্রকাশ করেছে হুথি-নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশন। তাদের দাবি, ভিডিওতে হামলার পর একটি ভবন ধসে পড়তে এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্যে উদ্ধারকাজ চালাতে দেখা গেছে।

তবে হামলার অভিযোগ নিয়ে সৌদি আরব এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।

আল-মাসিরাহ আরও একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, এতে ইয়েমেনের হাদরামাউত প্রদেশের একটি সীমান্ত পারাপার এলাকায় সামরিক সরঞ্জামবাহী সৌদি সরবরাহ ট্রাকে হুথি বাহিনীর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দৃশ্য রয়েছে।

সৌদি আরবকে ‘গণহত্যার’ অভিযোগ হুথিদের

হুথি মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি আল-জাওফে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা’ চালানোর অভিযোগ করেছেন। সৌদি বাহিনী সেখানে নজরদারি ড্রোন ও ভাড়াটে যোদ্ধাদের অস্ত্র সরবরাহ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সারি বলেন, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের চলমান ‘আগ্রাসন’ শাস্তি ছাড়া থাকবে না। ইয়েমেনের জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জন্য সৌদি আরবকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।

তিনি আরও দাবি করেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হুথি বাহিনী সৌদি আরবের চারটি নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এর মধ্যে একটি সিএইচ-৪ ড্রোন রয়েছে। তার দাবি, ড্রোনটি আল-জাওফে ‘শত্রুতামূলক মিশনে’ ছিল।

সারি জানান, গত ১২ ঘণ্টায় এটি ছিল এ ধরনের দ্বিতীয় ড্রোন এবং গত ২৪ ঘণ্টায় ভূপাতিত করা চতুর্থ ড্রোন। এসব অভিযোগ নিয়েও রিয়াদ কোনো মন্তব্য করেনি।

নতুন করে তীব্র হচ্ছে ইয়েমেনের লড়াই

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও হুথিদের মধ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আবারও লড়াই বেড়েছে। রোববার ইয়েমেন সরকার দাবি করেছে, আল-জাওফ, আল-বাইদা, আল-দালেয়া ও মারিব প্রদেশে হুথিদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য ভূখণ্ড পুনর্দখল করেছে তারা।

এর আগে বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লক্ষ্যে বড় ধরনের অভিযান শুরু করে হুথিরা। এর জবাবে গত কয়েক দিনে তায়েজ ও হোদেইদাহে পাল্টা হামলা চালিয়েছে সরকারি বাহিনী। গত ২৪ ঘণ্টার লড়াইয়ে শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

চলমান সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। ইয়েমেনে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ সোমবার উভয় পক্ষকে লড়াই বন্ধ এবং সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি সতর্ক করে বলেছেন, নতুন করে উত্তেজনা বড় আকারের যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

আগেও কারাগারে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলা

ইয়েমেনে গত এক দশকের সংঘাতে কারাগার ও আটককেন্দ্রে বিমান হামলার ঘটনা আগেও ঘটেছে। ২০২২ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সাদা প্রদেশের একটি আটককেন্দ্রে হামলা চালায়। ওই হামলায় অন্তত ৮৭ জন বন্দি নিহত এবং প্রায় ২৬৬ জন আহত হন।

এর আগে ২০১৯ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ধামার প্রদেশে হুথি-নিয়ন্ত্রিত একটি আটককেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল। এতে শতাধিক মানুষ নিহত এবং কয়েক ডজন আহত হন।