মঙ্গলবার

৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২১ আশ্বিন, ১৪৩৩

গ্রিসে ভয়াবহ দাবানল, আগুন নেভাতে ১৫০ ফায়ারফাইটার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:০৬

শেয়ার

গ্রিসে ভয়াবহ দাবানল, আগুন নেভাতে ১৫০ ফায়ারফাইটার
ছবি সংগৃহীত

উত্তর-পশ্চিম গ্রিসের কোনিৎসা শহরের কাছে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে ১৫০ জনের বেশি ফায়ারফাইটার, আটটি বিশেষায়িত গ্রাউন্ড টিম ও ৪৮টি অগ্নিনির্বাপণ যান কাজ করছে। রবিবার আগুনের তীব্রতা বেড়ে শহরজুড়ে ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থল ও আকাশপথে ব্যাপক অগ্নিনির্বাপণ অভিযান চালানো হচ্ছে।

৩১ আগস্ট আগুনের সূত্রপাত

এপিরাস অঞ্চলের পাহাড়ি ত্রাপেজিৎসা এলাকায় গত ৩১ আগস্ট দাবানলের সূত্রপাত হয়। এরপর কয়েক দফা আগুনের তীব্রতা বেড়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ১৫০ জনের বেশি ফায়ারফাইটারের পাশাপাশি আটটি বিশেষায়িত গ্রাউন্ড টিম ও ৪৮টি অগ্নিনির্বাপণ যান মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া আকাশপথে আগুন নেভাতে আটটি বিমান ও চারটি হেলিকপ্টার কাজ করছে।

শহরজুড়ে ঘন ধোঁয়া, সতর্ক থাকার আহ্বান

কোনিৎসার সিভিল প্রোটেকশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রবিবার থেকে আকাশপথে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। তবে এর ফলে শহরের ওপর ধোঁয়ার ঘনত্ব সাময়িকভাবে আরও বেড়ে যেতে পারে।

এ অবস্থায় শ্বাসকষ্ট বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত বাসিন্দাদের জানালা-দরজা বন্ধ রেখে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে বাসিন্দাদের আগেভাগেই নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আগুনের দিকে না যেতে এবং জরুরি যানবাহনের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে সরু সড়কগুলো খালি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুর্গম ভূখণ্ডে আগুন নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ

দুর্গম ও খাড়া পাহাড়ি ভূখণ্ড এবং ঘন বনাঞ্চলের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে দমকলকর্মীদের। আগুন যাতে কোনিৎসা শহরের দিকে ছড়িয়ে না পড়ে কিংবা নদী পেরিয়ে তিমফি পর্বত এলাকায় পৌঁছাতে না পারে, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, দাবানলপ্রবণ ওই এলাকায় জুনিপার, পাইন ও পুরোনো ফার গাছের ঘন বন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা শুকনো উদ্ভিদজাত দাহ্য উপাদান এবং গাছের উচ্চ রজনযুক্ত অংশের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে।

দাবানল নিয়ন্ত্রণে রাখতে দমকলকর্মীরা স্থল ও আকাশপথে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে দুর্গম ভূখণ্ড ও ঘন বনাঞ্চলের কারণে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।