রবিবার

৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২ ভাদ্র, ১৪৩৩

ভারতে চিকিৎসা নিতে বাংলাদেশিদের আগ্রহে বড় ধস, ভয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৫৬

শেয়ার

ভারতে চিকিৎসা নিতে বাংলাদেশিদের আগ্রহে বড় ধস, ভয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
ছবি সংগৃহীত

ভারতের কলকাতার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয় বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনার পর দেশটির চিকিৎসা পর্যটন খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশি রোগীদের আস্থা ফেরাতে এবার সরাসরি বাংলাদেশে প্রতিনিধিদল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতার প্রথম সারির কয়েকটি হাসপাতাল। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা রোগী ও তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি নিরাপদ হোটেল বুকিংয়েও দিকনির্দেশনা দেবেন।

নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে হাসপাতালের উদ্যোগ

কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের সাম্প্রতিক ভ্রমণ পরামর্শের পরিপ্রেক্ষিতেই হাসপাতালগুলো এ উদ্যোগ নিয়েছে। ওই পরামর্শে বাংলাদেশি পর্যটক ও রোগীদের ভারতে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় আইনগত অনুমোদন রয়েছে এমন নিরাপদ হোটেলে কক্ষ বুক করার আহ্বান জানানো হয়।

ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয় প্রশাসনের অভিযানে কম খরচের অনেক হোটেল বন্ধ হয়ে যায়। এতে স্বল্প বাজেটে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বাংলাদেশিরা আবাসন সংকটে পড়েন। যাচাই-বাছাই ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ হোটেলে অবস্থান ঠেকাতে হাসপাতালগুলো এখন আগাম আবাসন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

বাংলাদেশি রোগীদের জন্য বাড়ছে সহায়তা

আলিপুরভিত্তিক উডল্যান্ডস মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল বাংলাদেশি রোগীদের ভ্রমণের আগেই আশপাশের নিবন্ধিত ও নিরাপদ হোটেলের তালিকা দিচ্ছে। হাসপাতালটির প্রধান নির্বাহী রূপক বড়ুয়া জানান, উপহাইকমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী রোগীরা যাতে আগে থেকেই নির্ভরযোগ্য থাকার জায়গা নিশ্চিত করতে পারেন, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সার্বিক সহায়তা করছে।

অন্যদিকে, বিপি পোদ্দার হাসপাতাল বাংলাদেশে প্রতিনিধিদল পাঠানোর পাশাপাশি হাসপাতালের কাছেই বাংলাদেশি রোগীদের জন্য নিজস্ব নিরাপত্তাবেষ্টিত আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। রুবি জেনারেল হাসপাতালও বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র চালু করেছে। দেশুন হাসপাতাল রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য আগাম আবাসনের সুযোগ দিচ্ছে।

চিকিৎসা পর্যটন স্বাভাবিক ফেরানোর চেষ্টা

সাধারণত বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বাংলাদেশি রোগী ও তাদের স্বজনদের কয়েক দিন হোটেলে থাকতে হয়। ফলে নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা না থাকায় চিকিৎসা নিতে ভারতে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আশা, নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা, বাংলাদেশে প্রতিনিধিদল পাঠানো এবং বিশেষ সহায়তা দেওয়ার মতো যৌথ উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশি চিকিৎসাপ্রার্থীদের আস্থা ফিরবে। এর মাধ্যমে কলকাতার চিকিৎসা পর্যটন খাতও দ্রুত স্বাভাবিক ধারায় ফিরতে পারবে বলে আশা করছে হাসপাতালগুলো।