শনিবার

৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১ ভাদ্র, ১৪৩৩

হোটেল সংকটে কলকাতার রাস্তায় রাত কাটাচ্ছেন বাংলাদেশি রোগীরা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৩৮

শেয়ার

হোটেল সংকটে কলকাতার রাস্তায় রাত কাটাচ্ছেন বাংলাদেশি রোগীরা
ছবি সংগৃহীত

কলকাতায় হোটেল সংকটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চিকিৎসার জন্য যাওয়া বাংলাদেশি রোগী ও তাদের স্বজনরা। নিউমার্কেট এলাকার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপে বহু হোটেল ও গেস্টহাউস বন্ধ বা খালি করে দেওয়ায় থাকার জায়গা পাচ্ছেন না তারা। বাধ্য হয়ে অনেক রোগী ও স্বজনকে ফুটপাত ও রাস্তার পাশে রাত কাটাতে হচ্ছে।

গত ১৮ আগস্ট মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতজন বাংলাদেশি ও দুজন ভারতীয় নিহত হন। এরপর কলকাতা পুরসভা শহরের ৭০০টির বেশি হোটেল ও গেস্টহাউসকে নোটিশ দেয়। নিয়ম না মানা প্রতিষ্ঠানগুলো খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং নতুন অতিথি রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এতে চিকিৎসা ও অন্যান্য কাজে কলকাতায় থাকা বাংলাদেশি ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষজন আবাসন সংকটে পড়েছেন।

ক্যান্সার রোগী নিয়ে বিপাকে স্বজনরা

গত কয়েক দিন ধরে ঠাকুরপুকুর ক্যান্সার হাসপাতাল চত্বরে রোগী ও স্বজনদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। অনেকেই লাগেজ নিয়ে বৃষ্টির মধ্যে রাস্তার পাশে রাত কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে ক্যান্সার রোগীদের নিয়ে আসা স্বজনরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন।

এক বাংলাদেশি বলেন, হোটেল মালিকরা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতির কারণে ভবিষ্যতে আর কলকাতায় না আসার কথাও জানান তিনি।

আরেক রোগীর স্বজন বলেন, ক্যান্সার জটিল রোগ। কেমোথেরাপি নেওয়া রোগীদের হাসপাতালের কাছে থাকা জরুরি। কিন্তু হোটেল না পাওয়ায় তারা চরম কষ্টে আছেন।

আরেক বাংলাদেশি জানান, তারা নিয়ম মেনে ভিসা ও ট্যাক্স দিয়ে কলকাতায় এসেছেন। এমন পরিস্থিতি থাকলে আগে জানানো উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এক নারী জানান, তার রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, অথচ তাকে থাকার জায়গার জন্য রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে হচ্ছে। এলাকায় পর্যাপ্ত শৌচালয় না থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

হোটেল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ

এক বাংলাদেশি অভিযোগ করেন, তাকে হঠাৎ হোটেল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় থানাকে জানিয়েও কোনো সহায়তা পাননি তিনি। রোগীকে রেখে দেশে ফেরাও সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।

ঠাকুরপুকুর হাসপাতালে তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসার সুযোগ থাকায় বাংলাদেশি রোগীদের অনেকেই ওই এলাকায় অবস্থান করেন। আশপাশের গেস্টহাউসগুলোতেও তুলনামূলক কম খরচে থাকার সুযোগ ছিল। কিন্তু সেগুলো থেকেও রোগী ও স্বজনদের বের করে দেওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন। প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ হাজার রুপি খরচ করে বড় হোটেলে থাকা অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়।

অস্থায়ী আশ্রয়ের দাবি

ঠাকুরপুকুরের এক গেস্টহাউস মালিক জয়ন্ত সাউ বলেন, ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মুমূর্ষু রোগীদের তারা জায়গা দিতে পারছেন না। ঘূর্ণিঝড়ের সময় যেভাবে মানুষকে সরিয়ে ত্রাণশিবিরে রাখা হয়, তেমনভাবে সরকারকেও এই পরিস্থিতিতে অস্থায়ী থাকার ব্যবস্থা করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

এরই মধ্যে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে ঠাকুরপুকুর ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টার। জায়গা সীমিত হলেও হাসপাতালের ভেতরে সর্বোচ্চ ৫৫ জনের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তবে ভারত ও বাংলাদেশ থেকে আসা শতাধিক মানুষ এখনো রাস্তায় দিন কাটাচ্ছেন। রোগীকে নিয়ে দেশে ফিরতে পারছেন না, আবার থাকার মতো হোটেলও পাচ্ছেন না তারা। নিউমার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের পর প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপের মধ্যে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা এসব মানুষের আবাসন সংকট এখন চরম আকার ধারণ করেছে।