বলিভিয়ার লা পাজ বিভাগের ভিয়াচা শহরে একটি সামরিক স্থাপনায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রেজিমিয়েন্তো ২ বলিভার সামরিক স্থাপনায় এ বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রিতা নেব্রাস্কা জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা ১০ থেকে ১৫ জনের মধ্যে হতে পারে।
বিস্ফোরণে অন্তত ৫৮ জন আহত হয়েছেন। বলিভিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী এরনেস্তো জাস্তিনিয়ানোর তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে ৫২ জন বেসামরিক নাগরিক এবং ছয়জন সামরিক সদস্য।
বিস্ফোরকের এলাকায় দুর্ঘটনা
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সামরিক স্থাপনাটির এমন একটি এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটে যেখানে আতশবাজি বা বিস্ফোরকজাতীয় সামগ্রী সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। তবে কী কারণে বিস্ফোরণটি ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার কারণ এবং সেখানে বিস্ফোরক সামগ্রী কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
আতঙ্ক ছড়ায় আশপাশের এলাকায়
বিস্ফোরণের প্রচণ্ড শব্দ ও কম্পনে সামরিক স্থাপনার আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কাছাকাছি কয়েকটি বাড়ির জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং স্থাপনার কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ঘটনাস্থলে অ্যাম্বুলেন্স ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছান।
স্থানীয় প্রতিবেদনে প্রথমে দুটি বিস্ফোরণের কথা বলা হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বলা হয়, দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তিশালী ছিল। এর ধাক্কায় সামরিক স্থাপনার আশপাশের কয়েকটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ঘটনাস্থল নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর সামরিক বাহিনী সাধারণ মানুষকে ঘটনাস্থল থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেয়। সম্ভাব্য আরও কোনো ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা যাচাই করতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
চূড়ান্ত হতাহতের সংখ্যা এখনো নিশ্চিত নয়
বিস্ফোরণের সঠিক কারণ ও হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাবে নিহতের সংখ্যা ১০ থেকে ১৫ জন হতে পারে। উদ্ধার ও যাচাই কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর মৃতের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।
এদিকে, বলিভিয়ার সামরিক স্থাপনায় অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলাদা তদন্ত চলছে। চলতি সপ্তাহে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সান্তা ক্রুজ বিভাগের একটি সামরিক রেজিমেন্টের গুদাম থেকে ৩৩ হাজার ৬০৮টি ৫.৫৬×৪৫ মিমি গুলি নিখোঁজ হয়েছে। ওই ঘটনার তদন্তও চলছে।
তবে ভিয়াচার বিস্ফোরণের সঙ্গে নিখোঁজ গোলাবারুদের ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে—এমন কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ দেয়নি।
আরও পড়ুন:







