শুক্রবার

৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০ ভাদ্র, ১৪৩৩

মুসলিম হওয়ায় থানায় নিয়ে নির্যাতন, দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:৩৪

শেয়ার

মুসলিম হওয়ায় থানায় নিয়ে নির্যাতন, দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত

দিল্লিতে দুই নারী সাংবাদিককে থানায় নিয়ে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। সাংবাদিক শাহীন খান ও নাফিসা খান অভিযোগ করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাকে প্রশ্ন করায় তাদের সাকেত থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং ধর্মীয় পরিচয় জানার পর তাদের ওপর নির্যাতন বাড়ানো হয়।

ঘটনার সূত্রপাত

অভিযোগ অনুযায়ী, দিল্লির সাকেতে একটি হাসপাতালের নতুন ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। অনুষ্ঠানস্থল থেকে কিছুটা দূরে মুখ্যমন্ত্রীর একটি কাট-আউটের সামনে ভিডিও করার সময় পুলিশ তাদের হেনস্তা করে বলে অভিযোগ করেন দুই সাংবাদিক।

শাহীন খান পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগে জানান, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি দেখতে পান এলাকাটি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। পরে জানতে পারেন, অমিত শাহ ও রেখা গুপ্তা ম্যাক্স হাসপাতালের একটি নতুন ভবন উদ্বোধনে আসবেন।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ভিডিও করার সময় কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা পেছন থেকে এসে তাদের হুমকি দেন এবং মোবাইল ফোন নেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রতিবাদ জানালে কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্যকে ডেকে আনা হয়। পরে তাদের জোর করে সাকেত থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে অভিযোগ

নাফিসা খান অভিযোগ করেন, পুলিশ তাদের ধর্মীয় পরিচয় জানতে চায়। তারা মুসলিম জানার পর মারধরের মাত্রা আরও বেড়ে যায় বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, পুলিশ তাদের মারধর করার সময় থানার স্টেশন হাউস অফিসার বসে হাসছিলেন।

তাদের বিরুদ্ধে এমন আইনি ধারা দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়, যা তাদের কল্পনাতীত বলে অভিযোগ করেন নাফিসা। শাহীন খান জানান, সহকারী পুলিশ কমিশনারের কাছে সাহায্য চেয়েও তারা সহায়তা পাননি। থানায় চিকিৎসা সহায়তা চাওয়া হলেও তা দেওয়া হয়নি। পরে ১১২ নম্বরে ফোন করার পর তিনি সহায়তা পান বলে দাবি করেন।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সাংবাদিক সংগঠনগুলোর তদন্ত দাবি

দুই নারী সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগের ঘটনায় প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান উইমেনস প্রেস কোর, দিল্লি ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টস, প্রেস অ্যাসোসিয়েশন এবং কেরালা ইউনিয়ন অব ওয়ার্কিং জার্নালিস্টস যৌথ বিবৃতি দিয়েছে।

প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়া দিল্লি পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারের কাছে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। একই সঙ্গে প্রেস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়াকে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।

‘ফোর পিএম নিউজ নেটওয়ার্ক’ সামাজিক মাধ্যমে জানায়, তারা অভিযোগকারী সাংবাদিকদের পাশে রয়েছে। এ ঘটনায় ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছেও চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

সাকেত থানার সামনে বিক্ষোভ

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে এ ঘটনায় এফআইআর দায়েরের দাবিতে সাংবাদিক ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা সাকেত থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন।

সিপিআই-এমএলের ছাত্র সংগঠন আইসার নেত্রী নেহা বোরা অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা অপরাধ নয়। ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে দুই সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগেরও তদন্ত দাবি করেন তিনি।

সাংবাদিক ও ইউটিউবার অজিত আঞ্জুম এবং ইংরেজি সংবাদপত্র দ্য হিন্দুর কূটনীতি বিষয়ক সম্পাদক সুহাসিনী হায়দারও ঘটনার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া

আম আদমি পার্টি সাংবাদিকদের ওপর কথিত বলপ্রয়োগের নিন্দা জানিয়ে নারী নিরাপত্তা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

কংগ্রেস নেতা পবন খেরাও অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করার কারণে নারী সাংবাদিকদের মারধর করা হয়েছে এবং তাদের একজন মুসলিম জানার পর হামলার মাত্রা বেড়েছে।

অভিযোগকারী সাংবাদিকরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং আঘাতের বিষয়টি মেডিকো-লিগাল কেস (এমএলসি) প্রতিবেদনের মাধ্যমে নথিবদ্ধ করতে এইমস-এ গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।