নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলের নয় দিন পর একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেল থেকে দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো ওই টানেলের ভেতরে আরও শ্রমিক আটকা থাকার আশঙ্কা রয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) মধ্যাঞ্চলের ত্রিশূলী নদী করিডরে অবস্থিত ত্রিশূলী ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে এ উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।
উদ্ধার হওয়া দুজন হলেন যান্ত্রিক ফোরম্যান সঞ্জয় সাহ এবং যান্ত্রিক সুপারভাইজার কবির মহার্জন। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
টানেলে আটকা ছিলেন ৪২ শ্রমিক
ত্রিশূলী ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে নিখোঁজ ৪২ শ্রমিকের সন্ধানে উদ্ধারকারীরা নয় দিন ধরে অভিযান চালিয়ে আসছিলেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে সঞ্জয় সাহ ও কবির মহার্জনকে টানেল থেকে জীবিত বের করে আনা হয়।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, প্রায় এক ডজন উদ্ধারকারী মাটির তৈরি একটি ছোট গর্ত দিয়ে একজন শ্রমিককে বের করে আনছেন। নিরাপদে বাইরে আনার পর উদ্ধারকারীরা হাততালি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
জাতীয় স্বাধীন পার্টির আইনপ্রণেতা ও প্রকৌশলী শ্রী রাম নিউপানে এ তথ্য জানিয়েছেন। গত ২৬ আগস্ট পাহাড়ি ঢলের পর থেকে তিনি উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
টানেলের ভেতরে আরও মানুষ থাকার আশঙ্কা
নিউপানে জানান, প্রথমে সঞ্জয় সাহকে উদ্ধার করা হয়। পরে কবির মহার্জনকেও জীবিত অবস্থায় বের করে আনা হয়। তবে টানেলের ভেতরে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে তথ্য পেয়েছেন উদ্ধারকারীরা। তাদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে উদ্ধারকারীরা টানেলের ভেতর থেকে মানুষের কণ্ঠস্বর শুনতে পান এবং আটকে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হন। এরপর নেপালি সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী তাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা জোরদার করে।
নিউপানের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকারীরা টানেলের ভেতরে ডাক দিয়ে বলেছিলেন, ভয় পাবেন না, আমরা আপনাদের উদ্ধার করতে এসেছি। জবাবে ভেতর থেকে বলা হয়, ঠিক আছে। পরে উদ্ধারকারীরা নিশ্চিত হন, সেখানে একাধিক ব্যক্তি অবস্থান করছেন।
ঘটনাস্থলে পাঠানো হচ্ছে মেডিকেল টিম
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত নুওয়াকোট জেলার পুলিশ প্রধান বিপিন রেগমি বলেন, উদ্ধারকারীরা টানেলের ভেতর থেকে মানুষের কণ্ঠস্বর শুনতে পেয়েছেন। আহত বা দুর্বল শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য ঘটনাস্থলে একটি মেডিকেল টিম পাঠানো হচ্ছে।
জলবিদ্যুৎকেন্দ্রটির ভূগর্ভস্থ পাওয়ার হাউজে যাওয়ার টানেলটি চার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ। ভয়াবহ বন্যার সময় সেখানে কয়েক ডজন শ্রমিক কাজ করছিলেন।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প
ত্রিশূলী নদীর তীরে অবস্থিত নেপালের কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব প্রকল্পে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতের নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমিক কাজ করছিলেন।
ভয়াবহ পাহাড়ি ঢলে ত্রিশূলী নদী ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এ ঘটনায় নেপালে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্ধারকারী দল এখনো নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন:







