বুধবার

২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮ ভাদ্র, ১৪৩৩

কুয়েত-জর্ডান ও বাহরাইনে মার্কিন অবস্থানে পালটা হামলা চালিয়েছে ইরান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৮:০৯

শেয়ার

কুয়েত-জর্ডান ও বাহরাইনে মার্কিন অবস্থানে পালটা হামলা চালিয়েছে ইরান
ছবি সংগৃহীত

কুয়েত, জর্ডান, ইরাক ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এর আগে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। কয়েক ঘণ্টা পরই পালটা হামলা শুরু করে তেহরান।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে ইরানের হরমুজ প্রণালির ভূখণ্ডে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর কুয়েত, জর্ডান, ইরাক ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে আইআরজিসি।

কুয়েতে ড্রোন প্রবেশের তথ্য

কুয়েতের সেনাবাহিনী তাদের আকাশসীমায় ড্রোন প্রবেশের তথ্য জানিয়েছে। তারা বলেছে, কোনো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলে সেটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ড্রোন ভূপাতিত করার শব্দ হতে পারে। তবে নিরাপত্তার জন্য সবাইকে নিরাপদ স্থানে থাকার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

জর্ডানে মার্কিন ড্রোনের হ্যাঙ্গারে হামলা

জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে দীর্ঘপাল্লার আরকিউ-৪ ও এমকিউ-৯ ড্রোন থাকা হ্যাঙ্গারগুলো লক্ষ্য করে একটি ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি।

ইরানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, হামলায় কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস হয়েছে। বেশ কয়েকজন মার্কিন ফ্লাইট ও কারিগরি কর্মী নিহত হয়েছেন। কারিগরি অবকাঠামোর কয়েকটি অংশে আগুন ধরে গেছে।

তবে হামলায় কোনো ধরনের হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডান।

এর আগে জর্ডানের ক্যাম্প তিতিনে মার্কিন মেরিন সেনাদের ব্যারাকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছিল আইআরজিসি। তাদের দাবি, ওই হামলায় অনেক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। ক্যাম্পটির বেশ কয়েকটি স্থাপনা এবং শত্রুপক্ষের অ্যাটাক হেলিকপ্টার ধ্বংস করা হয়েছে।

বাহরাইন ও ইরাকেও হামলার দাবি

বাহরাইনের শেখ ঈসা ঘাঁটিতে বড় আকারের ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির দাবি, ওই ঘাঁটির রাডার ব্যবস্থা এবং মার্কিন সেনারা যেসব এলাকায় জড়ো হয়েছেন, সেসব স্থানকে লক্ষ্য করা হয়েছে।

এ ছাড়া ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপরও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড।

বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার জবাব দেওয়ার দাবি

আইআরজিসি বলেছে, হরমোজগান প্রদেশের সিরিকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার জবাবে এসব হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, ওই হামলায় এক শিশুসহ চারজন নিহত ও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

এদিকে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানি ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করে। এর মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই ধ্বংস করে দেয়।

দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন হামলা

এর আগে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ ইরানের বেশ কয়েকটি এলাকায় বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, কোনারাক, চাবাহার, জাস্ক, সিরিক, লাভান ও আসলুয়েহ এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আহভাজ প্রদেশেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

গত জুলাইয়ের পর রোববার রাতে প্রথমবার দুই দেশের সরাসরি পালটাপালটি হামলার ঘটনা ঘটে। তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে কঠোর আঘাত হানার হুমকি দিয়েছিলেন। এরপর মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এ হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, এই হামলার জবাবে ইরান যদি পালটা আঘাত হানে, তবে তাদের ওপর আরও কঠোর হামলা চালানো হবে।