বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর আরোপিত ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসা প্রদানের স্থগিতাদেশ তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের এ নীতিকে বেআইনি ও বাতিল ঘোষণা করার পর ২১ আগস্ট থেকে স্থগিতাদেশটি আর কার্যকর নেই। ২৮ আগস্ট মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের ওয়েবসাইটে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৭৫ দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত করেছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। তখন সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল, যেসব আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভরশীল বা বোঝা হয়ে উঠতে পারেন, তাদের অতিরিক্ত যাচাইয়ের আওতায় আনা।
আদালতের রায়ের পর নীতি বাতিল
ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্কের দায়ের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের বিচারক জেনেট ভার্গাস গত ২১ আগস্ট এ নীতির বিরুদ্ধে রায় দেন। আদালত বলেন, কেবল জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসী ভিসা প্রত্যাখ্যান করা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের অধীনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ক্ষমতার সীমার বাইরে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের হালনাগাদ তথ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে, ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তটি আর কার্যকর নেই।
তালিকায় থাকা ৭৫টি দেশ হলো বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামা, বার্বাডোজ, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ব্রাজিল, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, কোত দিভোয়ার, কিউবা, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, ডমিনিকা, মিসর, এরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজ রিপাবলিক, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনিগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, পাকিস্তান, রিপাবলিক অব কঙ্গো, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিন্স, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তাঞ্জানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, টিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান ও ইয়েমেন।
আবেদনকারীদের জন্য যা প্রযোজ্য
স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়ার ফলে এসব দেশের নাগরিকরা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পুনরায় মার্কিন অভিবাসী ভিসার অনুমোদন পেতে পারবেন। তবে এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাসংক্রান্ত সব সাধারণ শর্ত পূরণ করতে হবে।
পূর্বের নীতি চলাকালে ইতোমধ্যে ইস্যু করা কোনো ভিসা বাতিল করা হয়নি। এ সময় নতুন আবেদন জমা ও সাক্ষাৎকার গ্রহণের প্রক্রিয়াও অব্যাহত ছিল। কেবল চূড়ান্তভাবে ভিসা প্রদান স্থগিত রাখা হয়েছিল।
অন্যদিকে, যেসব আবেদনকারীর দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে এবং তাদের কাছে এ ৭৫ দেশের বাইরের কোনো দেশের বৈধ পাসপোর্ট ছিল, তারা আগে থেকেই এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে ছিলেন। পাশাপাশি আমেরিকান পরিবার কর্তৃক দত্তক নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট প্রোক্লেমেশন ১০৯৯৮-এর আওতায় ছাড় দেওয়া হয়।
এ ছাড়া পর্যটক, শিক্ষার্থী কিংবা অস্থায়ী কর্মীদের ব্যবহৃত নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এ বিধিনিষেধের আওতাভুক্ত ছিল না।
বিশ্বব্যাপী সাক্ষাৎকার স্থগিতের বিষয়টি আলাদা
তবে ৭৫ দেশের ওপর থেকে এ স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার অর্থ এই নয় যে বিশ্বব্যাপী অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকার ও অ্যাপয়েন্টমেন্টসংক্রান্ত স্থগিত পরিস্থিতি শেষ হয়েছে। আগস্টের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে অভিবাসী ভিসাসংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে সমন্বয় বা স্থগিত করার পৃথক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিক সাক্ষাৎকার সূচি পুরোপুরি কবে থেকে চালু হবে, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।
আরও পড়ুন:







