রবিবার

৩০ আগস্ট, ২০২৬ ১৫ ভাদ্র, ১৪৩৩

আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে সেমিনার আটকাল দিল্লি পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:২৯

শেয়ার

আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে সেমিনার আটকাল দিল্লি পুলিশ
ছবি সংগৃহীত

ভারতের দিল্লিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত একটি আলোচনা অনুষ্ঠান শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়েছে। আয়োজকদের অভিযোগ, দিল্লি পুলিশের হস্তক্ষেপের কারণে নির্ধারিত অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে দিল্লি পুলিশ।

দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ায় শনিবার (২৯ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ইউরোপ ও এশিয়া: সংলাপ থেকে অংশীদারত্ব ও সমৃদ্ধির পথে শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানটি। এফসিসি ও বেলজিয়ামভিত্তিক হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ আয়োজন করেছিল।

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল বাংলাদেশে জুলাই অভ্যুত্থানের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম মাহমুদের। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা বিজ্ঞানী ড. নূরুন্নবী, বাংলাদেশে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত বীণা সিক্রি, বাংলাদেশে জার্মানির সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোল্টজ এবং চেক প্রজাতন্ত্রের রাজনীতিক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য অন্দ্রেজ দোস্তালের অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

আয়োজকদের হস্তক্ষেপের অভিযোগ

শনিবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিবৃতিতে এফসিসি জানায়, দিল্লি পুলিশের ব্যাখ্যাতীত হস্তক্ষেপের কারণে নির্ধারিত অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়, সিদ্ধান্তটি খুব অল্প সময়ের নোটিসে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি আয়োজক ও এফসিসি সাউথ এশিয়ার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল।

তবে দিল্লি পুলিশ হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নয়াদিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার শচীন শর্মা বলেন, সেমিনার আয়োজনের জন্য এফসিসির পুলিশের অনুমতির প্রয়োজন হয় না। তাদের অনুষ্ঠানে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো হস্তক্ষেপও করা হয়নি।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিলক মার্গ পুলিশ স্টেশন থেকে এফসিসিকে জানানো হয়েছিল যে কর্মসূচিটি অনুমোদিত নয়। এফসিসির লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের জবাবে বলা হয়, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী কিছু বিতর্কের কারণে কর্মসূচিটি অনুমোদিত নয়।

বাংলাদেশকেন্দ্রিক নয় বলে দাবি

এই হস্তক্ষেপকে অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন আয়োজকরা। তাদের দাবি, আয়োজনটি বাংলাদেশকেন্দ্রিক ছিল না। পরে সুবিধাজনক সময়ে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের কথা জানিয়েছেন তারা।

অনুষ্ঠানে হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের মহাসচিব আ ফ ম গোলাম জিলানীরও অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে তিনি ভারতে যেতে পারেননি, কারণ তাকে ভিসা দেওয়া হয়নি।

জিলানী জানিয়েছেন, তার ভিসার প্রক্রিয়া এখনো চলছে। তবে তিনি বিষয়টিকে অস্বাভাবিক বলে মনে করেন না।

তার সংগঠনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেছেন তিনি। তার মতে, সংগঠনটির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক থাকার ধারণাটি ভুল।

আগের আয়োজনে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা

তবে আওয়ামী লীগ প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের অনুষ্ঠান আয়োজনের একাধিক উদাহরণ রয়েছে।

সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরামের ২০১৯ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় সংসদে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি সম্মেলন সোশ্যালিস্টস অ্যান্ড ডেমোক্র্যাটস গ্রুপ, বেলজিয়াম আওয়ামী লীগ এবং হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন যৌথভাবে আয়োজন করেছিল। সেখানে ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি হিসেবে গোলাম জিলানীর নাম তালিকাভুক্ত ছিল।

চলতি বছরের জুলাইয়ে আওয়ামী লীগের ইউরোপীয় শাখা জানায়, হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইউরোপীয় সংসদে দক্ষিণ এশিয়ায় গণতান্ত্রিক রূপান্তর, মানবাধিকার ও ভূরাজনীতি বিষয়ে একটি সেমিনার আয়োজন করা হয়। এতে ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও অন্য প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ওই অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের মহাসচিব হিসেবে অংশ নেন গোলাম জিলানী।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে একই এফসিসির আয়োজনে একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনা।

সেই সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে নতুন করে টানাপড়েনের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ এ নিয়ে অসন্তোষের কথা ভারতকে জানায়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর বিঘ্নিত হওয়ার ক্ষেত্রেও ওই আয়োজনকে কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

এর মধ্যেই আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে নতুন আলোচনা অনুষ্ঠানটি বন্ধ হওয়াকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে।