শুক্রবার নেপালের দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা তাদের সর্বশেষ আপডেটে জানায়, বন্যাকবলিত স্থান থেকে ৫৭৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আর নিখোঁজ আছেন ১ হাজার ৯২৪ জন। যারমধ্যে বিদেশি ৫১৭ জন।
আক্রান্তস্থলে উদ্ধার অভিযান চালাতে নিরাপত্তাবাহিনীর ১৫ হাজার সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
অপরদিকে নেপালের পুলিশ ৫৭৫ জন বিদেশি নিখোঁজ থাকার তথ্য দিয়েছে। যারমধ্যে ৩৬টি দেশের নাগরিক আছেন। এরমধ্যে ভারতের সর্বোচ্চ ১৮৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫ জন এবং ইউক্রেনের ৬২ নাগরিকের খোঁজ পাওয়া যায়নি। এরসঙ্গে ৩৩ ব্রিটিশ নাগরিকও নিখোঁজ আছেন।
যেখানে বন্যা হয় তার পাশেই অবস্থিত চীনের স্বায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চল তিব্বত। এই তিব্বতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র স্থান কৈলাস মানস সরোবর অবস্থিত। ভারতের বিভিন্ন জায়গা থেকে সেখানে যান পর্যটকরা। এছাড়া অন্যান্য দেশের নাগরিকরাও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর ওই স্থানটিতে ঘুরতে যান। এ কারণে এক জায়গাতেই এত বিদেশি পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
গত বুধবার সকালে হঠাৎ করে রাসুয়ার দিকে ধেয়ে আসে আকস্মিক ঢল। এ সময় সেখানে ত্রিশূলি এবং নারায়নি নদীর পানি বেড়ে যায়। আর ভোটকোশি নদীর পানি ফুলেফেঁপে ওঠে। পাহাড়ের ওপর থেকে নেমে আসা পানিতে যুক্ত হয় ভূমিধসের কাদামাটি, পাথর।
এই বানের শক্তি এতই বেশি ছিল যে এটি তার পথে থাকা সবধরনের অবকাঠামো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। ঘরবাড়ি, সেতু, গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি- সব ভাসিয়ে নিয়ে গেছে এটি।
নেপালের পাশাপাশি চীনের স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল তিব্বতও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে অন্তত ৩০০ জন মানুষ নিখোঁজ আছেন। চীন তিব্বতে তিনজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছিল। এরপর নতুন করে আর হতাহতের তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভয়াবহ ওই বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
আরও পড়ুন:







