পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজ থেকে একটি শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পোস্টে তিনি ইংরেজিতে লিখেছেন, ঈদ মোবারক। মিলাদ-উন-নবী উপলক্ষে শুভেচ্ছা। আশা করি, এই উপলক্ষ সবার মাঝে সম্প্রীতি ও আনন্দ আরও বাড়িয়ে তুলবে। উদারতা এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার চেতনা যেন সর্বদা আমাদের পথপ্রদর্শক হয়ে থাকে।
নেটিজেনদের তীব্র প্রতিক্রিয়া ও রসিকতা
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এমন সম্প্রীতির বার্তায় অনেকেই সাধুবাদ জানালেও, কমেন্ট বক্সে চোখ রাখলে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। নেটিজেনদের অনেকেই এই পোস্টের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য খুঁজছেন, আবার কেউ কেউ নিচ্ছেন এক হাত। রুহি কুইন নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ধর্ম মানুষের বিশ্বাসের বিষয়, রাজনৈতিক প্রচারের উপকরণ নয়। ধর্মকে সম্মান করুন। হামজা জুনানি নামের আরেক ফেসবুক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছে, মোদী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট টেনে এনে রসিকতা করে লিখেছেন, "ইফেক্ট অফ হাসিনা"। এর পাশাপাশি, ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিমদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন তার এই পোস্টের নিচে।
শব্দচয়ন নিয়ে ধর্মীয় বিতর্ক
তবে এসব সমালোচনার বাইরে সামাজিক মাধ্যমে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে মোদীর পোস্টে ব্যবহৃত 'ঈদ মোবারক' শব্দ দুটি। মহিদুল ইসলাম ও রাজিবুল ইসলাম সহ বেশ কয়েকজন নেটিজেন প্রশ্ন তুলেছেন, এটা তো ঈদ নয়? ঈদ দুইটি। ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে 'ঈদ মোবারক' বলাটা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কতটা যৌক্তিক? ইসলাম ধর্মে কি দিনটিকে ঈদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, নাকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী না জেনেই এই শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছেন?
রাজনৈতিক সমীকরণ ও ভাবমূর্তি রক্ষার চেষ্টা
রাজনৈতিক সমীকরণ, ভাবমূর্তি রক্ষার চেষ্টা, নাকি নিছকই না জেনে শুভেচ্ছা জানানো নরেন্দ্র মোদীর এই পোস্টের পেছনের উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, নেটিজেনদের তীক্ষ্ণ নজর এবং ধর্মীয় আলোচনার খোরাক যুগিয়েছে তার এই একটিমাত্র ফেসবুক স্ট্যাটাস।
আরও পড়ুন:







