বুধবার

২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১১ ভাদ্র, ১৪৩৩

ক্রিটে দুই নৌকা থেকে বাংলাদেশিসহ ৭৯ অভিবাসনপ্রত্যাশী উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৪৭

শেয়ার

ক্রিটে দুই নৌকা থেকে বাংলাদেশিসহ ৭৯ অভিবাসনপ্রত্যাশী উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত

গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে দুটি নৌকা থেকে বাংলাদেশিসহ ৭৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে দেশটির কোস্টগার্ড। তাদের মধ্যে অন্তত দুই নারী ও দুই শিশু রয়েছে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকের পাশাপাশি যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানের নাগরিকও রয়েছেন।

মঙ্গলবার দক্ষিণ ক্রিটের কালিলিমেনেস বন্দরের কাছে তাদের উদ্ধার করা হয়।

গ্রিসের কোস্টগার্ডের এক প্রেস কর্মকর্তা জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি ড্রোন সমুদ্রে দুটি নৌকার অবস্থান শনাক্ত করে। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে নৌকা দুটিতে থাকা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের উদ্ধার করা হয়।

এর আগে গ্রিসের এএনএ নিউজ এজেন্সি ৮৫ জনকে উদ্ধারের খবর দিয়েছিল। পরে কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্ধার হওয়া মানুষের প্রকৃত সংখ্যা ৭৯।

সাম্প্রতিক সময়ে গ্রিসের ক্রিট ও কাছের গাভদোস দ্বীপ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হয়ে উঠেছে। লিবিয়ার উপকূল থেকে গাভদোসের দূরত্ব প্রায় ৩২০ কিলোমিটার।

লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী। এ জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানে দীর্ঘ সমুদ্রপথ পাড়ি দিতে হচ্ছে তাদের।

২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত আগের এক বছরে প্রায় ৬১ হাজার অভিবাসী গ্রিসে পৌঁছেছিলেন। পরবর্তী ১২ মাসে এ সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় ৪২ হাজারে। অর্থাৎ এক বছরে অভিবাসী আগমন কমেছে প্রায় ৩১ শতাংশ।

তবে ক্রিট ও গাভদোসের মতো দ্বীপগুলো এখনো অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে রয়েছে।

ইউরোপে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসননীতি আরো কঠোর করা হয়েছে। অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন লিবিয়ার মতো ট্রানজিট দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়েছে।

গ্রিসের অভিবাসনমন্ত্রী থানোস প্লেভরিস অভিবাসীদের আগমন ঠেকাতে কঠোর নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অভিবাসীদের আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ স্থাপনের বিষয়েও জার্মানি ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে গ্রিস।

এই নীতিগত কড়াকড়ির মধ্যেই ক্রিটের কাছে বাংলাদেশিসহ ৭৯ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধারের ঘটনা ঘটল। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টায় থাকা মানুষের জন্য এ পথ যে এখনো সক্রিয়, এই ঘটনাও তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।