বুধবার

২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১১ ভাদ্র, ১৪৩৩

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে: জাতিসংঘ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ০৭:৩৩

শেয়ার

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে: জাতিসংঘ
ছবি সংগৃহীত

মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, দেশটির আশঙ্কাজনক মানবাধিকার পরিস্থিতি এখন এক নতুন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কার্যালয়ের প্রতিবেদনে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির পেছনে অনবরত বিমান হামলা, অগ্নিসংযোগ ও বেসামরিক নাগরিকদের বাস্তুচ্যুত করার ঘটনাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত সময়ের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তৈরি করা হয়েছে। এতে সংঘাত-সহিংসতা ও অর্থনৈতিক পতনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের গভীর যোগসূত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, দেশজুড়ে সাধারণ নাগরিকদের মনে ভীতি সৃষ্টি ও একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সামরিক জান্তা তাদের নিপীড়নমূলক কৌশল বহুগুণ বাড়িয়েছে। নাগরিকদের ওপর কঠোর নজরদারি চালাতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হয়েছে। বেসামরিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে নিয়মিত প্রাণঘাতী বিমান হামলা, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং সাধারণ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করার ঘটনা দেশটিতে নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে।

জান্তা সরকারের আগ্রাসী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মিয়ানমারে অবৈধ খনিজ আহরণ, মাদক উৎপাদন, মানবপাচার এবং অনলাইনে পরিচালিত আর্থিক প্রতারণাকেন্দ্রগুলোর বিস্তার বর্তমান মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মিয়ানমারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, প্রতিবেদনটি পুরো দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ, চরম দুর্দশা ও নির্মম নিষ্ঠুরতার এমন এক চিত্র তুলে ধরেছে, যা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে তিনি বিশ্বের সব রাষ্ট্র, বহুজাতিক কোম্পানি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিজেদের ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনার আহ্বান জানান। মিয়ানমারের সাধারণ মানুষের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এমন অবস্থান কতটা সুবিচারপূর্ণ, তা নিয়ে ভাবার আহ্বানও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে জান্তা বাহিনী। এর পর থেকেই দেশটিতে তীব্র রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। অভ্যুত্থানের মূল হোতা সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং চলতি বছরের এপ্রিল মাসে নিজেকে দেশটির বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজ সরকারের কূটনৈতিক বৈধতা আদায়ের লক্ষ্যে তিনি বর্তমানে নানা তৎপরতা চালাচ্ছেন।