মঙ্গলবার

২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১০ ভাদ্র, ১৪৩৩

চীনের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতায় চাপে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:১৯

শেয়ার

চীনের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতায় চাপে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি সংগৃহীত

চীন এমন হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল (এইচজিভি) তৈরি করেছে, যেগুলো থেকে আকাশ-থেকে-আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা সম্ভব। এর মাধ্যমে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সহায়ক বিমান, যেমন কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ বিমান, আকাশপথে আগাম সতর্কতা ও নজরদারি বিমান এবং যুদ্ধবিমানকে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা তৈরি হতে পারে।

বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত এক ব্যক্তি সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য জানিয়েছেন। তার দাবি, চীন কিছু হাইপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রেও আকাশ-থেকে-আকাশে হামলার সক্ষমতা যুক্ত করেছে। পাশাপাশি কয়েক ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রে জাহাজবিধ্বংসী সক্ষমতাও সংযোজন করা হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের হিসাবে, চীনের কাছে ৩ হাজার ১৫০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। নতুন সক্ষমতাটি চীনের বৃহত্তর ক্ষেপণাস্ত্র আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার লক্ষ্য প্রতিপক্ষের যোগাযোগ, নজরদারি, কমান্ড, জ্বালানি সরবরাহ ও যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতায় একই সঙ্গে আঘাত হানা।

চীনের ডিএফ-১৭ ক্ষেপণাস্ত্র থেকে নিক্ষেপ করা হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকলের পাল্লা প্রায় ২ হাজার ৪০০ কিলোমিটার বলে ধারণা করা হয়। আর ডিএফ-২৭ ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটার বলে ধারণা করা হয়। ফলে গুয়াম ও হাওয়াইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক অঞ্চলও সম্ভাব্য হুমকির আওতায় আসতে পারে।

হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে অত্যন্ত উচ্চ গতিতে চলার সময় গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। ফলে প্রচলিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এর গতিপথ অনুমান ও প্রতিহত করা কঠিন।

তবে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে চলমান বিমানকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত করা অত্যন্ত জটিল। লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান শনাক্ত, তথ্য আদান-প্রদান এবং ক্ষেপণাস্ত্রকে সঠিক লক্ষ্যে পরিচালনার পুরো প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। পাশাপাশি প্রচলিত ও পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের পার্থক্য নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি থেকে অনিচ্ছাকৃত পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের হিসাবে, ২০২৪ সাল নাগাদ চীনের কাছে অন্তত ৩ হাজার ১৫০টি ব্যালিস্টিক ও প্রায় ৩০০টি স্থলভিত্তিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। গত এক দশকে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

চীনের সক্ষমতা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রও দূরপাল্লার আকাশ-থেকে-আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে এআইএম-১৭৪বি, এআইএম-৪২৪ ম্যালিস ও এআইএম-২৬০। ইউরোপের এমবিডিএ মেটিওরও ১৬০ কিলোমিটারের বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই দীর্ঘপাল্লার আকাশযুদ্ধের সক্ষমতা বাড়ানোয় ভবিষ্যৎ সংঘাতে শুধু যুদ্ধবিমান নয়, ট্যাংকার, নজরদারি বিমান ও উড়ন্ত কমান্ড পোস্টও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। এতে দূরবর্তী উচ্চমূল্যের সামরিক সম্পদ রক্ষার কৌশলেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

সূত্র: ব্লুমবার্গ, জাপান টাইমস ও দ্য স্ট্রেইটস টাইমস