পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগার থেকে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ঘিরে দেশটির বর্তমান সরকারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রবীণ সাংবাদিক হামিদ মীর।
ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামিদ মীর বলেন, পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসে আদালতের এমন সুবিধা অনেক সময় ক্ষমতাচ্যুত বা কারাবন্দি নেতাদের রাজনীতিতে ফেরার পথ তৈরি করেছে। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।
হামিদ মীর বলেন, ২০১৯ সালে দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য জামিন পেয়ে নওয়াজ শরিফ লন্ডনে যান। পরে তিনি পাকিস্তানের রাজনীতিতে ফিরে আসেন।
সম্প্রতি ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতির প্রেক্ষাপটে তাকে আদিয়ালা কারাগার থেকে বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্ট। তবে শেহবাজ শরিফের সরকার দ্রুত ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়।
হামিদ মীরের মতে, পাকিস্তানে আদালতের এ ধরনের সিদ্ধান্তকে প্রায়ই পর্দার আড়ালের কোনো সমঝোতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়। এ কারণে শরিফ পরিবার মনে করতে পারে, ইমরান খানও কোনো গোপন সমঝোতার মাধ্যমে এ ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন।
ক্ষমতাসীন জোটের মধ্যেও সম্প্রতি মতবিরোধ দেখা দিয়েছে বলে জানান হামিদ মীর। তার ভাষ্য, পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতা বিলাওয়াল ভুট্টো সরকারের বিভিন্ন ইস্যুতে অবস্থান নিয়েছেন।
একই সঙ্গে তরুণদের মধ্যে রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি অসন্তোষ বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
হামিদ মীর বলেন, ইমরান খানের জনপ্রিয়তা এখনো পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বাস্তবতা। দেশটির রাজনীতিতে যেকোনো কিছু ঘটতে পারে। নওয়াজ শরিফ যেমন কারাগার থেকে বের হয়ে আবার রাজনীতিতে ফিরতে পেরেছেন, তেমনি ইমরান খানও আবার সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে আসতে পারেন।
তার মতে, ইমরান খানের সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের আশঙ্কাই বর্তমানে শেহবাজ শরিফ সরকারের উদ্বেগের অন্যতম কারণ।
আরও পড়ুন:








