বৃহস্পতিবার

২০ আগস্ট, ২০২৬ ৫ ভাদ্র, ১৪৩৩

কলকাতার সেই হোটেলের ইজারাদার গ্রেপ্তার, মালিক অধরা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৫২

শেয়ার

কলকাতার সেই হোটেলের ইজারাদার গ্রেপ্তার, মালিক অধরা
ছবি সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার শিখা ইন হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশিসহ নয়জন নিহতের ঘটনায় হোটেলটির ইজারাদার আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। তবে হোটেলটির মালিক বীরেশ্বর মিত্রের এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি।

বুধবার রাতে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ আবু জাফরকে আটক করে। গোয়েন্দা বিভাগের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, জোড়াসাঁকোর বাসিন্দা আবু জাফরকে এন্টালি মার্কেট এলাকা থেকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেলটির আরও দুই কর্মীকেও আটক করা হয়েছে। তবে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

অগ্নিকাণ্ডের পর শিখা ইনের পার্শ্ববর্তী মির্জা গালিব স্ট্রিটের নয়টি হোটেল ও চারটি রেস্তরাঁকে সুরক্ষাবিধি না মানার অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ফায়ারসার্ভিস বিভাগ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে বুধবার মধ্যরাতে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটে অবস্থিত হোটেলটিতে আগুন লাগে। রাত ২টার দিকে নিউ মার্কেট থানায় আগুন লাগার খবর পায় কলকাতা পুলিশ। পরে পুলিশ ও দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। জরুরি তৎপরতায় তাদের সঙ্গে কলকাতা ইলেকট্রিক সাপ্লাই করপোরেশনও (সিইএসসি) যুক্ত হয়।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও পরিস্থিতি তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে।

দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানে হোটেল থেকে প্রায় ৬০ জনকে বের করে আনা হয়। তাদের মধ্যে দুই নারী ও একটি শিশুসহ নয়জনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকেরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

প্রাথমিক প্রতিবেদনে একটি এয়ার কন্ডিশনার (এসি) বিস্ফোরণের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে জানা গেছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অগ্নিকাণ্ডের পর এলাকাটি নিরাপত্তার আওতায় নেওয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।

কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশন জানিয়েছে, নিহত বাংলাদেশিদের চারজন কুষ্টিয়ার একই পরিবারের সদস্য। অন্য একজন ঢাকার সাভারের বাসিন্দা।

উপহাইকমিশন আরও জানিয়েছে, আহত ছয় বাংলাদেশি নাগরিককে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা কাজ করছে। বাংলাদেশিদের সহায়তায় ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইনও চালু রাখা হয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানিয়েছেন, কলকাতার হোটেলগুলোর বৈধ অনুমতিপত্র ও অগ্নিনিরাপত্তা সনদ আছে কি না, তা যাচাই করতে একটি দল গঠনের পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার।

অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ভবনটিতে তিনটি তলায় প্রায় ১০টি হোটেল ছিল। কক্ষগুলোও ছিল ছোট। এ ধরনের পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।



banner close
banner close