মঙ্গলবার

১৮ আগস্ট, ২০২৬ ৩ ভাদ্র, ১৪৩৩

শুভেন্দুর সরকারকে দশ দিনের সময়সীমা তেলাপোকা পার্টির

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:৫৭

শেয়ার

শুভেন্দুর সরকারকে দশ দিনের সময়সীমা তেলাপোকা পার্টির
ছবি সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়ার ইন্দাসে সিজেপির স্বেচ্ছাসেবক শেখ আব্দুল হাফিজের বাবা শেখ মাফিকের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজ্য সরকারকে ১০ দিনের সময়সীমা দিয়েছে তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি)। এ সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে জেলা প্রশাসন কার্যালয় ঘেরাওসহ বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।

সোমবার দিল্লি থেকে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা, তাঁর জ্যেষ্ঠ সহযোগী বিজয় মালঙ্গি, অঙ্কিত ভরদ্বাজ, আকাশ প্রেম ও সুধীর সাংওয়ানকে সঙ্গে নিয়ে বাঁকুড়ার ইন্দাসের করিশুন্ডা গ্রামে হাফিজের বাড়িতে যান। সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পর এ সময়সীমা ঘোষণা করা হয়।

কয়েক দিন আগে হাফিজের বাড়িতে দুষ্কৃতকারীরা হামলা চালালে ছেলেকে রক্ষা করতে ঢাল হয়ে দাঁড়ান তাঁর পিতা পঞ্চাশোর্ধ্ব শেখ মাফিক। হামলায় গুরুতর আহত মাফিককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রবিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

হাফিজ সিজেপির আন্দোলনে যুক্ত হয়ে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতির দাবিতে কাজ করছিলেন। নিজ এলাকায় ফিরে তিনি ইন্দাসের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল দশা নিয়ে প্রধান শিক্ষক ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সিজেপির ‘স্কুল ঠিক করো’ প্রচারণার অংশ হিসেবে নিজের শৈশবের স্কুলের দুরবস্থার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের উদ্যোগ নিলে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীরা হাফিজের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং ধারণ করা ভিডিওগুলো মুছে ফেলতে বাধ্য করে। ওই হামলার সময় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে মাফিক আহত হন।

সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, পরিবারটি সরকারি ক্ষতিপূরণ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এর পরিবর্তে হাফিজ তাঁর বাবার নামে আন্তর্জাতিক মানের একটি স্কুল নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে এ দাবি পূরণের আবেদন জানিয়ে রাঙ্কা বলেন, এমন একটি প্রতিষ্ঠান মাফিকের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধাঞ্জলি হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষাকে কেন্দ্র করে জনসচেতনতা তৈরির নতুন মডেল হতে পারে।

রাঙ্কা আরও বলেন, ১০ দিনের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং অন্যান্য দাবি পূরণ না হলে সিজেপি জেলা প্রশাসন কার্যালয় ঘেরাও করবে। এরপর আরও বড় আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।

এদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাফিকের স্ত্রী হাসিনা বেগমের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার ইন্দাস থানায় মামলা করা হয়েছে। অভিযোগে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, হামলায় আরও ১০ থেকে ১৫ জন জড়িত ছিল। এ ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বাঁকুড়ার পুলিশ প্রধান ভি. জি. সতীশ পশুমার্থী বলেন, অভিযোগে নাম থাকা আটজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও গ্রেপ্তার করা হবে। তদন্ত চলছে।

মাফিকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে সিজেপির নেতাদের পাশাপাশি সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষ ও এসএফআইয়ের সাবেক সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ময়ূখ বিশ্বাসও করিশুন্ডা গ্রামে যান।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



banner close
banner close