রবিবার

১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১ ভাদ্র, ১৪৩৩

মুসলিমদের শত্রু ভারত কীভাবে আফগানিস্তানের বন্ধু হলো?

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:৫৭

শেয়ার

মুসলিমদের শত্রু ভারত কীভাবে আফগানিস্তানের বন্ধু হলো?
ছবি বাংলা এডিশন

ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে একসময়কার বন্ধুত্বের সম্পর্কে এখন তীব্র তিক্ততা। যে পাকিস্তান একসময় তালেবানের সবচেয়ে বড় আশ্রয়দাতা ছিল, আজ তাদের সাথেই চলছে রক্তক্ষয়ী সীমান্ত সংঘাত। আলোচনা রয়েছে, ঠিক এই সুযোগটিই কাজে লাগিয়েছে ভারত।

কট্টর হিন্দুত্ববাদী নীতিতে চলা ভারতের বিজেপি সরকার এবং কট্টর ইসলামিক গোষ্ঠী তালেবানের একাংশের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক অভাবনীয় সখ্যতা। অথচ, ভারতের দৃষ্টিতে আফগানিস্তান শুধু একটি প্রতিবেশী দেশ নয়, এটি মধ্য এশিয়া, ইরান, পাকিস্তান ও দক্ষিণ এশিয়ার এক অতি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। তাই আদর্শিক বৈপরীত্য থাকা সত্ত্বেও কৌশলগত কারণে আফগানিস্তানের মাটিতে নিজেদের শিকড় মজবুত করছে দিল্লি।

পাকিস্তানের বিমান হামলা ও অভিযোগ

সম্প্রতি, আফগানিস্তানের কাবুলসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি বিস্ফোরক বার্তা দেন। তার অভিযোগ, ২০২১ সালের জুলাইয়ে ন্যাটো বাহিনী প্রত্যাহারের পর তালেবান শান্তি প্রতিষ্ঠার বদলে আফগানিস্তানকে ভারতের একটি উপনিবেশে পরিণত করেছে।

খাজা আসিফের দাবি, পাকিস্তান কূটনৈতিকভাবে সর্বাত্মক চেষ্টা করার পরও, কাবুল এখন পুরোপুরি ভারতের প্রক্সি বা ছায়াশক্তি হিসেবে কাজ করছে এবং সন্ত্রাসবাদ রপ্তানি করছে। এমনকি আফগান মাটি ব্যবহার করে ভারতের মদদে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটি স্বল্প-তীব্রতার যুদ্ধ পরিচালনারও অভিযোগ তোলেন তিনি।

তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদের দেয়া তথ্যমতে, পাকিস্তান একযোগে কাবুল, কান্দাহার, পাক্তিয়া ও পাক্তিকা প্রদেশে এই হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে কাবুলের একটি আবাসিক ভবনে হামলায় চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন।

কান্দাহারে কাম এয়ারের তেল সংরক্ষণাগার, একটি খালি কনটেইনার এবং এমনকি মাদকাসক্তদের একটি পুনর্বাসন হাসপাতালেও হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মাধ্যমে তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদাকে নিরাপত্তা দেয়া বিশেষ ইউনিটের ঘাঁটিতেও হামলার খবর প্রকাশিত হয়েছে। যদিও তালেবান তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

পবিত্র রমজান মাসে নারী ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষের হতাহতের এই ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাফ জানিয়ে দেন, পাকিস্তানের এই বিমান হামলা মূলত তাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতাকে বাইরের দিকে ঠেলে দেয়ার আরেকটি অপচেষ্টা।

এর তাৎক্ষণিক ও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি ভারতের এই বক্তব্যকে অযৌক্তিক, অযাচিত ও ভণ্ডামিপূর্ণ আখ্যা দেন। পাকিস্তান দাবি করে, ভারতের মদদেই আফগান মাটি থেকে ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ এবং বেলুচ বিদ্রোহীদের সংগঠন ফিতনা-আল-হিন্দুস্তান পরিচালিত হচ্ছে। যদিও ভারত বরাবরের মতোই এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে।

মুজিব বাহিনীর মতো কাঠামো গড়ার গুঞ্জন

ভারত-আফগানিস্তানের বর্তমান এই সম্পর্ককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক তত্ত্বের জন্ম হয়েছে। অনেকেই একে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের ভূমিকার সঙ্গে তুলনা করছে। গুঞ্জন উঠেছে, ঠিক যেভাবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে একশ্রেণীর শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ভারত মুজিব বাহিনীর মতো কাঠামো তৈরি করেছিল, কাবুলেও কি তারা সেই একই কৌশল অবলম্বন করছে?

পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানের ভেতরে ভারতীয় দালাল ও এজেন্টরা সক্রিয়। এই এজেন্টদের মাধ্যমে ভারত আফগানদের নানা সুযোগ-সুবিধা ও প্রলোভন দেখিয়ে পাকিস্তানবিরোধী একটি শক্ত বলয় তৈরি করছে। পাকিস্তান এই সম্পর্ককে তাদের অস্তিত্ব ও নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে বেলুচিস্তান এবং খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ক্রমাগত জঙ্গি হামলা এবং চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের নিরাপত্তা নিয়ে ইসলামাবাদের যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে, তার নেপথ্যে ভারতের হাত রয়েছে বলেই মনে করে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী।

ভারত-আফগান ঘনিষ্ঠতা পাকিস্তান কতটা মেনে নিতে পারছে না, তার প্রমাণ মেলে পাকিস্তানি সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরীর বক্তব্যে। সম্প্রতি আফগান তালেবান সরকারের এক মন্ত্রী ভারত ও আফগানিস্তানের মানুষের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন, দুই দেশের মানুষের ডিএনএ একই।

এর কড়া জবাবে জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী সরাসরি কোরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃত করেন, যেখানে মুসলমানদেরকে অমুসলিমদের বন্ধু বা রক্ষক হিসেবে গ্রহণ না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি সাধারণ আফগান জনগণকে তালেবানের থেকে আলাদা করার চেষ্টা করেন এবং দাবি করেন, ভারতের বিজেপি ও আরএসএসের সাথে তালেবানের সম্পর্ক এখন প্রভু ও দাসের মতো।

ক্রিকেটের মাধ্যমে সফট পাওয়ার

আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের মন জয় করতে ভারত অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে তাদের সফট পাওয়ার ব্যবহার করছে, যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো ক্রিকেট। যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে নিজস্ব কোনো আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম বা উন্নত অবকাঠামো নেই। এই দুর্বলতাকেই সুযোগ হিসেবে নিয়েছে দিল্লি।

ভারত, আফগান ক্রিকেট দলকে তাদের মাটিতে হোম গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ দিয়েছে। আফগান ক্রিকেটাররা এখন ভারতের আইপিএলসহ নানা টুর্নামেন্টে নিয়মিত খেলছেন, বিপুল অর্থ ও সম্মান পাচ্ছেন। খেলাধুলার এই অবারিত সুযোগ-সুবিধা দিয়ে ভারত আফগান তরুণ সমাজ এবং খেলোয়াড়দের মন জয় করে নিয়েছে সুক্ষ্ণভাবে।

ভারতে আফগানদের এই ক্রিকেট হোম গ্রাউন্ডের সুবিধা নেয়াকে অনেকেই দেখছে সন্দেহের চোখে। কারণ, একই ধরনের সুবিধা চাইলে, আরব আমিরাত, পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশের থেকেও নিতে পারতো আফগানরা। কিন্তু, সেটি না করে ভারতের সাথে এ ধরনের সম্পর্ক উন্নয়নকে, দুই দেশের সুবিধাবাদীদের দাবার ঘুঁটির চালের সাথেই তুলনা করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সম্পর্কের ইতিহাস ও বর্তমান ঘনিষ্ঠতা

অন্যদিকে, ভারত ও তালেবানের সম্পর্কের শুরুটা এমন ছিল না। ১৯৯৬ সালে তালেবান যখন প্রথমবার আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসে, তখন ভারত তাদের স্বীকৃতি দেয়নি। সে সময় কেবল পাকিস্তান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। ভারত তখন তালেবানকে পুরোপুরি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একটি প্রক্সি হিসেবেই বিবেচনা করত।

২০০১ সালে মার্কিন অভিযানে তালেবান ক্ষমতাচ্যুত হলে, ভারত দ্রুত কাবুলে দূতাবাস চালু করে এবং হামিদ কারজাইয়ের সরকারকে সমর্থন দেয়। এরপর আফগানিস্তানে ভারতীয় স্থাপনায় বহুবার হামলা হয়েছে। বিশেষ করে ২০০৮ সালে কাবুলে ভারতীয় দূতাবাসে ভয়াবহ বোমা হামলায় অন্তত ৫৮ জন নিহত হয়, যার দায় পরোক্ষভাবে তালেবানের ওপরই বর্তায়। এমনকি ২০২১ সালে তালেবান যখন আবার ক্ষমতায় ফেরে, ভারত অবিলম্বে তাদের দূতাবাস বন্ধ করে কূটনীতিক ও নাগরিকদের সরিয়ে নেয়।

কিন্তু পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে অন্য একটি সমীকরণে। তালেবান ক্ষমতায় আসার পর তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি ইস্যুতে ইসলামাবাদের সাথে কাবুলের চরম দূরত্ব তৈরি হয়। পাকিস্তান হাজার হাজার আফগান শরণার্থীকে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেয় এবং দুই দেশের সীমান্তে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক প্রভীন ডোন্তির মতে, শত্রুর শত্রু নীতিই এখানে নতুন বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২০২২ সালে ভারত কাবুলে প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদের একটি দল পাঠায়। তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রির সঙ্গে এবং পরে নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। মুত্তাকি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, কাবুল সবসময় ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা চায়।

তালেবান ক্ষমতায় আসার বহু আগেই আফগানিস্তানে ভারতের একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ও অর্থনৈতিক উপস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ২০০১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ভারত সেখানে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে আইকনিক হলো কাবুলের নতুন সংসদ ভবন, যা প্রায় ৯৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত। এই ভবনে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর নামে একটি ব্লকও রয়েছে এবং ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এটি উদ্বোধন করেন। এছাড়া ভারতের বর্ডার রোড অর্গানাইজেশন প্রায় ১৫ কোটি ডলার ব্যয়ে ২১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ জারাঞ্জ-দিলারাম মহাসড়ক নির্মাণ করে। এই প্রকল্পে কাজ করতে গিয়ে ১১ জন ভারতীয় প্রকৌশলী প্রাণ হারান।

২০১৬ সালে প্রায় ২৯ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত হেরাটের সালমা বাঁধের নাম দেয়া হয় আফগান-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ ড্যাম। একই বছর ভারত, ইরান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চাবাহার বন্দর কেন্দ্রিক ট্রানজিট চুক্তি হয়। এর বাইরেও ভারত দেশটিকে ২০০টি মিনিবাস, ৪০০টি বাস, ১০৫টি সরকারি গাড়ি, ২৮৫টি সামরিক গাড়ি, ১০টি অ্যাম্বুল্যান্স এবং তিনটি এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান উপহার দিয়েছিল।

কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি ভূমিকম্পের পর আফগানিস্তানে খাদ্য, ওষুধ, টিকা এবং স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোতে বিপুল মানবিক সহায়তা দিয়েছে ভারত। ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রাঘব শর্মার মতে, তালেবান এখন কার্যত আফগানিস্তানের শাসক এবং বিকল্প কোনো রাজনৈতিক শক্তি সেখানে নেই। তাই রাষ্ট্রগুলো বাস্তবতার সাথে তাল মিলিয়েই সম্পর্ক গড়ছে।

এরই ধারাবাহিকতায়, তালেবান ক্ষমতা দখলের পঞ্চম বর্ষপূর্তিতে সোমবার (১৭ আগস্ট) নয়াদিল্লির আফগান দূতাবাসে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে ভিক্টরি ডে আয়োজনের ঘোষণা দেয়া হয়। যদিও ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি, তবুও এমন একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠান দিল্লির বুকে আয়োজিত হওয়া তালেবানের জন্য বিশাল এক কূটনৈতিক বিজয়। ভারত মুম্বাই ও হায়দরাবাদে আফগান কনস্যুলেট পরিচালনারও অনুমতি দিয়েছে।

২০০১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত হামিদ কারজাই ও আশরাফ গনির সরকার ভারতের ঘনিষ্ঠ অংশীদার ছিল। কারজাই ভারতকে মহান বন্ধু এবং পাকিস্তানকে যমজ ভাই বললেও, তালেবান নেতাদের পাকিস্তানে অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করতেন। আশরাফ গনিও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে ব্যর্থ হন।

বর্তমানে তালেবানের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া, কারণ এখন পর্যন্ত কেবল রাশিয়াই তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়লে অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণ হবে। আফগান কর্মকর্তারা এরই মধ্যে ভারতীয় কোম্পানিগুলোকে তাদের খনি খাতে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এছাড়া, ভারতে বসবাসরত আফগান শিখ ও হিন্দুদের ফিরিয়ে নিয়ে ব্যবসা শুরুর আহ্বান জানানো হয়েছে এবং সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুরও ঘোষণা এসেছে।

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ভারতের পররাষ্ট্রনীতি বরাবরই অত্যন্ত কৌশলগত। ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন যখন আফগানিস্তানে সামরিক হস্তক্ষেপ করে, তখন পশ্চিমা বিশ্ব নিন্দা জানালেও তৎকালীন ইন্দিরা গান্ধী সরকার জাতিসংঘে সরাসরি মস্কোর বিরুদ্ধে ভোট দেয়া থেকে বিরত ছিল। অর্থাৎ, আদর্শ নয়, বরং সময় ও কৌশলগত স্বার্থ অনুযায়ী অবস্থান পরিবর্তন করাই দিল্লির পুরোনো নীতি।

২০২৫ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পহেলগাম হামলাকে কেন্দ্র করে সামরিক সংঘাতের পরও আফগানিস্তান হামলার নিন্দা করে ভারতের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছিল। একসময় ভারত যে তালেবানকে পাকিস্তানের প্রক্সি ভাবত, আজ সেই ভারতই কাবুলে নিজেদের প্রভাব বাড়াচ্ছে। আর যে পাকিস্তান তালেবানকে মিত্র ভাবত, আজ তারা সীমান্তে একে অপরের দিকে বন্দুক তাক করে আছে।

দিল্লি ও কাবুলের এই নতুন সখ্যতার মূলে আদর্শের চেয়ে কৌশলগত জাতীয় স্বার্থই বড় হয়ে উঠেছে। এখন একটাই প্রশ্ন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা যত বাড়বে, ভারতের সাথে তালেবানের সম্পর্ক কি ততই গভীর হবে? আর যদি তা-ই হয়, তবে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এর চূড়ান্ত পরিণতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?



banner close
banner close