মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে সরিয়ে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা শুরু না হলে ইরানের বন্দরগুলোতে অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌ অবরোধ বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন।
দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করায় ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের মানসিক চাপসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। রণতরিটি টানা ২৪০ দিনের বেশি সমুদ্রে অবস্থান করেছে। এ সময়ে পানিদূষণ, পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সংকট এবং নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে অবসরপ্রাপ্ত নৌ কর্মকর্তা হারলান উলম্যান বলেছেন, দীর্ঘ ২০০ দিন বন্দরে না ভিড়ে সমুদ্রে অবস্থান করায় যুদ্ধজাহাজটির সক্ষমতা ও প্রস্তুতি কমে গেছে। এ কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে আনা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) পিট হেগসেথ নিশ্চিত করেন, পর্যায়ক্রমে রণতরি বদলে দিয়েও ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকাল নৌ অবরোধ চালিয়ে যাওয়া হবে। একই দিনে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন।
গত ১৭ জুনের ৬০ দিন মেয়াদি সমঝোতা চুক্তির মেয়াদ রোববার (১৬ আগস্ট) শেষ হতে চললেও নতুন কোনো আলোচনার ইঙ্গিত নেই। এতে দুই দেশের সংঘাত আবারও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মার্কিন দাবি অস্বীকার করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, জলপথটি তাদের দখলে এবং সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও বিদেশে থাকা ইরানের সম্পত্তি ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে মার্কিন জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছে দেশটি।
যুদ্ধের কারণে প্রতিদিন ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে মঙ্গলবার মাত্র আটটি জাহাজ চলাচল করেছে। গত ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে ১২টি জাহাজ চলাচল করেছে। ফলে প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি দাবিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রধান এই পথ বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মার্কিন অবরোধের কারণে তেল রপ্তানি বন্ধ হয়ে ইরান আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়লেও হরমুজ প্রণালিকে দর-কষাকষির প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর পাল্টা চাপ তৈরি করছে।
সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা
আরও পড়ুন:








