বৃহস্পতিবার

১৩ আগস্ট, ২০২৬ ২৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩

২৩ বছর পর ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৪৩

আপডেট: ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১০:৪৪

শেয়ার

২৩ বছর পর ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি সংগৃহীত

ইরাক থেকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব সেনা প্রত্যাহার করে নেবে যুক্তরাষ্ট্র।

গতকাল বুধবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল জাইদির দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরাকে ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী বৈশ্বিক জোটের অভিযান শেষ হতে চলেছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব বিদেশি সেনা ইরাক ছেড়ে যাবে। এ সময়সীমা নির্ধারিত ও চূড়ান্ত। ১ অক্টোবর থেকে ইরাকে আর কোনো বিদেশি সেনা থাকবে না। দিনটিকে ইরাকের জন্য ঐতিহাসিক বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকমের কমান্ডার জেনারেল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আলি আল জাইদির বৈঠকের পর মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি ওয়াশিংটন সফর করেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী। ওই সফরের সময় জেনারেল ব্র্যাড কুপারের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়।

বুধবারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সেনা প্রত্যাহারের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাক পরস্পরের সার্বভৌমত্ব এবং দ্বিপক্ষীয় স্বার্থের প্রতি সম্মান জানাবে। দুই দেশ অর্থনীতি ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আরও জোরদারে মনোযোগ দেবে।

সাদ্দাম উৎখাতের পর শুরু হয়েছিল অভিযান

ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির শুরু ২৩ বছর আগে। ২০০৩ সালে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাত করতে অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।

ওই বছরের ১৯ মার্চ ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী। নয় মাসের মাথায় গ্রেপ্তার হন সাদ্দাম হোসেন। প্রায় তিন বছর বিচার চলার পর ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ভোরে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

শর্ত অনুযায়ী, সাদ্দাম হোসেনের মৃত্যুর পরই ইরাক ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল মার্কিন বাহিনীর। কিন্তু এর অল্প সময়ের মধ্যেই দেশটিতে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএসের উত্থান ঘটে।

আইএসকে দমন ও নির্মূল করতে ইরাকে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়াশিংটন। এরপর দেশটিতে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি দীর্ঘায়িত হয়।

‘ইরাকি বাহিনী এখন সক্ষম’

ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে আরও তথ্য জানতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা এপিকে বলেন, আইএসকে পরাজিত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, ইরাক ও জোটের অংশীদারেরা ‘অসাধারণ সাফল্য’ দেখিয়েছে। বর্তমানে ইরাকে থাকা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো দমনে ইরাকি সেনাবাহিনী যথেষ্ট সক্ষম বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে ইরাকে বর্তমানে কতজন মার্কিন সেনা রয়েছে, সে তথ্য প্রকাশ করেননি ওই কর্মকর্তা।



banner close
banner close