সোমবার

১০ আগস্ট, ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ, ১৪৩৩

ইরান যুদ্ধে অস্ত্র ঘাটতি, উৎপাদন বাড়াতে পেন্টাগনের চাপ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯ আগস্ট, ২০২৬ ২২:৪৭

শেয়ার

ইরান যুদ্ধে অস্ত্র ঘাটতি, উৎপাদন বাড়াতে পেন্টাগনের চাপ
ছবি সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে মার্কিন সমরাস্ত্রের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। এ পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোকে উৎপাদন বাড়াতে এবং সরবরাহের গতি বাড়াতে চাপ দিয়েছে পেন্টাগন। শনিবার (৮ আগস্ট) দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট একটি গোপন মেমোর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিভ ফেইনবার্গ গত বুধবার শীর্ষ প্রতিরক্ষা ঠিকাদারদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। তাতে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ও সরঞ্জামের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে এবং সরবরাহের সময়সূচি আরও আগ্রাসী করতে ২১ দিনের মধ্যে পরিকল্পনা জমা দিতে হবে। মেমোতে ফেইনবার্গ লিখেছেন, বছরের পর বছর ধরে চলা উন্নয়ন চক্র এখন আর গ্রহণযোগ্য নয়। এখনই কর্মসূচির সময়সূচি নাটকীয়ভাবে দ্রুত করতে হবে এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

অস্ত্র ঘাটতি নিয়ে টানাপোড়েন

সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, অস্ত্র ও গোলাবারুদের ঘাটতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষা দপ্তরের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার পরই এই নির্দেশনা এসেছে। শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কংগ্রেসে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা বাজেট পাস না হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি সমাধান কঠিন। তবে পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউস ইতোমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিপুল পরিমাণ সমরাস্ত্র রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গোলাবারুদ তৈরি করা হচ্ছে।

এর আগে জুলাইয়ের শেষদিকে হোয়াইট হাউসে প্রথাগত প্রতিরক্ষা ঠিকাদার ও সিলিকন ভ্যালির স্টার্টআপগুলোর নির্বাহীদের ডাকা হয়। সেখানে চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক হয়। লকহিড মার্টিন, নর্থরপ গ্রুম্যান, বোয়িং, অ্যান্ডুরিল ও পালানটিরের মতো কোম্পানির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তাদের পরামর্শ দেওয়া হয়, কংগ্রেসনাল রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর জন্য আইনপ্রণেতাদের কাছে সরাসরি লবিং করতে।

কমছে প্যাট্রিয়ট ও থাডের মজুদ

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পেন্টাগন কম খরচের গোলাবারুদ থেকে শুরু করে থাড ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সরবরাহ বাড়াতে একাধিক কাঠামোগত চুক্তি ঘোষণা করেছে। সিএসআইএসের মিসাইল ডিফেন্স প্রজেক্টের পরিচালক টম কারাকো বলেছেন, এগুলো মূলত চুক্তি করার সম্মতি মাত্র, চূড়ান্ত চুক্তি নয়। এখনো প্রায় কিছুই আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়নি।

যুদ্ধের প্রথম মাসেই আমেরিকা ৮৫০টির বেশি টমাহক ক্রুজ মিসাইল এবং এক হাজারের বেশি প্যাট্রিয়ট ও থাড ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছে। সেনাবাহিনীও ১ হাজার ৩০০টির বেশি ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।

সিএসআইএসের হিসাব অনুযায়ী, প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশ্বিক মজুদ যুদ্ধপূর্ব ২ হাজার ২০০টি থেকে কমে ৮২৭টির নিচে নেমেছে। থাডের সংখ্যাও ৪৫২ থেকে ২৭৮টির নিচে নেমে এসেছে।

উৎপাদন বাড়াতে কাঠামোগত চুক্তি

গত সোমবার প্যাট্রিয়ট ও থাডের উৎপাদন বাড়াতে নর্থরপ গ্রুম্যান ও লকহিড মার্টিনের সঙ্গে ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি ঘোষণা করা হয়েছে। লকহিড মার্টিনকে ২০৩০ সালের মধ্যে প্যাক-৩ উৎপাদন তিন গুণ বাড়াতে ৫৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত মূল্যের চুক্তিও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অ্যান্ডুরিল, ক্যাস্টেলিয়নসহ কয়েকটি ডিফেন্স টেক কোম্পানির সঙ্গেও কাঠামোগত চুক্তি হয়েছে।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানিয়েছেন, উৎপাদন ত্বরান্বিত করতে শিল্প নেতাদের সঙ্গে কাজ করা নতুন কিছু নয়। প্রেসিডেন্ট ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর শুরু থেকেই এটি লক্ষ্য ছিল। ফেইনবার্গের মেমো বাস্তব একটি নথি এবং এটি ২০২৮ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তুতিতে ভূমিকা রাখবে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ সম্প্রতি বলেছেন, যুদ্ধকালীন জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উৎপাদনের জন্য শিল্পখাতের সঙ্গে প্রকৃত অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে। নিয়মকানুনের জালে আটকে রেখে তাদের গতি শ্লথ করা যাবে না।



banner close
banner close