যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসাধারীদের জন্য চাকরি হারানোর পর নতুন কর্মসংস্থান খোঁজার ৬০ দিনের সুযোগ বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ বিদেশি কর্মী ও তাদের নির্ভরশীলদের চাকরি হারানোর পর দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে।
রোববার (৯ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ভিসা নীতির সংশ্লিষ্ট বিধান বাতিলের বিষয়টি বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ-সংক্রান্ত নতুন প্রস্তাব বর্তমানে হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেটের (ওএমবি) পর্যালোচনায় রয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত নিয়মে পরিণত হয়নি এবং প্রস্তাবটির বিস্তারিত তথ্যও পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি।
নতুন বিধান চূড়ান্ত হলে নির্দিষ্ট কিছু বিদেশি কর্মী ও তাদের নির্ভরশীলদের জন্য বিদ্যমান সর্বোচ্চ ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিল হতে পারে। ফলে চাকরি হারানোর পর নতুন কর্মসংস্থান খোঁজার জন্য বর্তমানে যে অতিরিক্ত সময় পান, তা আর নাও পাওয়া যেতে পারে। এতে চাকরি হারানো কর্মী ও তাদের নির্ভরশীলদের প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে।
এই পরিবর্তনটি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয় প্রবাসীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। ভারতসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি দক্ষ কর্মী কর্মসূচির বড় সুবিধাভোগী।
ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের (ইউএসসিআইএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে অনুমোদিত এইচ-১বি আবেদনের ৭১ শতাংশই ছিল ভারতে জন্মগ্রহণকারী সুবিধাভোগীদের জন্য। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ৫২ লাখের বেশি ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ বসবাস করছেন।
২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমান ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ডের বিধান চালু করা হয়। এর আওতায় নির্দিষ্ট কিছু উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মী চাকরি হারানোর পর নতুন চাকরি খোঁজার সুযোগ পান।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, চাকরি হারানোর পর সংশ্লিষ্ট কর্মী একটানা সর্বোচ্চ ৬০ দিন অথবা অনুমোদিত ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারেন। এ ক্ষেত্রে যেটি আগে ঘটে, সেটিই প্রযোজ্য হয়।
এই বিধান ই-১, ই-২, ই-৩, এইচ-১বি, এইচ-১বি১, এল-১, ও-১ এবং টিএনসহ বিভিন্ন ভিসা শ্রেণির কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। একই ধরনের সুবিধা তাদের নির্ভরশীলদের ক্ষেত্রেও রয়েছে।
তবে প্রস্তাবটি এখনো পর্যালোচনাধীন হওয়ায় এটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে কি না, কিংবা হলে ঠিক কী পরিবর্তন আসবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
আরও পড়ুন:








