ইরানের কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কয়েকটি কঠোর শর্ত দিয়েছে তেহরান। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, অঞ্চল থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেওয়া, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাগের জোলঘাদর এসব শর্তের কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে তাদের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে এবং অঞ্চলটি থেকে সামরিক বাহিনী সরিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে যেতে হবে ওয়াশিংটনকে।
এ ছাড়া চলমান সংঘাতে ইরানের যে আর্থিক ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে তেহরান। বিভিন্ন দেশে আটকে রাখা বা বাজেয়াপ্ত করা ইরানি সম্পদ অবিলম্বে মুক্ত করার শর্তও দিয়েছে দেশটি।
মোহাম্মদ বাগের জোলঘাদর বলেন, এসব দাবি ইরানের সর্বস্তরের জনগণের। যুক্তরাষ্ট্র তাদের আগ্রাসী নীতি ও আচরণ সংশোধন না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এর আগে শনিবার (৮ আগস্ট) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার বিষয়ে প্রতিবেশী দেশ ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর কাছাকাছি রয়েছে তেহরান।
তবে তিনি বলেন, প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি ওয়াশিংটনের ইতিবাচক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে। বিশেষ করে জুনে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের দায় যুক্তরাষ্ট্রকে স্বীকার করে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির নাব্যতা ও বাণিজ্যিক নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে তাদের আলোচনা ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে এগিয়েছে।
এর এক দিন আগে শুক্রবার (৭ আগস্ট) ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, ওমানের প্রস্তাবিত সম্ভাব্য খসড়া চুক্তির বিষয়ে দেশটির আইনপ্রণেতারা সম্মতি জানিয়েছেন। চূড়ান্ত নীতিগত অনুমোদনের পর এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:





.jpg)


