শনিবার

৮ আগস্ট, ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩

শব্দদূষণের অজুহাতে পশ্চিমবঙ্গে একের পর এক মসজিদের মাইক অপসারণ

নিউজ ডেস্ক বাংলা অডিশন

প্রকাশিত: ৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৩৩

শেয়ার

শব্দদূষণের অজুহাতে পশ্চিমবঙ্গে একের পর এক মসজিদের মাইক অপসারণ
ছবি সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ উত্তাল। মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে ঘিরে আবারও দেখা দিয়েছে নতুন এক উদ্বেগ। যেখানে আজানের ধ্বনি কানে এলে ভরে ওঠে মুসলমানদের মন, শীতল হয়ে আসে হৃদয়, সেই ধ্বনিই আজ যেন চাপে পড়েছে নীরবতার অদৃশ্য দেয়ালে। শব্দদূষণের অজুহাতে পশ্চিমবঙ্গে একের পর এক মসজিদ থেকে খুলে ফেলা হচ্ছে মাইক।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সবখানেই তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ এবং চরম অস্বস্তি। প্রশ্ন উঠছে মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়েও। তথ্য বলছে, পশ্চিমবঙ্গে এ পর্যন্ত খুলে ফেলা হয়েছে পাঁচ হাজারেরও বেশি লাউডস্পিকার, যার মধ্যে চার হাজারের বেশি মাইক শুধুমাত্র মসজিদের। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিসংখ্যানই যেন ইঙ্গিত দেয়, অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয় থেকে মাইক অপসারণ কেবলই একটি বাহানা; প্রকৃত লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে মুসলমানদের আবেগের প্রাণকেন্দ্র, মসজিদ।

এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলছেন, এটি আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন। আজানের ধ্বনি মসজিদের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকবে, বাইরে যাবে না।

কিন্তু, এখানেই উঠছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, আদালত কি সত্যিই মাইক অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে, নাকি শুধুমাত্র শব্দের সীমা নির্ধারণ করেছে। পশ্চিমবঙ্গের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের দাবি, আদালত কোথাও মাইক অপসারণের নির্দেশ দেয়নি; বরং কেবল শব্দের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের কথা বলেছে।

এই প্রসঙ্গে, ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি ও প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী। এমনকি যারা মাইক অপসারণের নির্দেশ দিচ্ছে, তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। যা এই বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে।

এছাড়াও, এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ভাঙড় আসনের এমএলএ এবং ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকী। তার অভিযোগ, প্রশাসন মুসলমানদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে মাইক খুলে ফেলতে বাধ্য করছে। তিনি এই পদক্ষেপকে হঠকারী বলে আখ্যা দিয়ে, এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে ঘিরে তৈরি করা হচ্ছে ষড়যন্ত্রের এক নীল নকশা। কখনো কোরবানি, কখনো আজান, আর এখন মসজিদের মাইক অপসারণ। একটির পর একটি ইস্যু যেন নতুন করে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে রাজ্যজুড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং ক্ষমতাকেন্দ্রিক পরিকল্পিত এক ধারাবাহিক কৌশলের অংশ।

সবশেষে প্রশ্ন থেকেই যায়, এটি কি সত্যিই শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ, নাকি মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণের এক সূক্ষ্ম রাজনীতি। বিশ্লেষকদের মতে, আজানের ধ্বনি থেমে গেলে, শব্দ তো কমবেই না, ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে মুসলমানদের মসজিদমুখী উপস্থিতিও। আর ঠিক সেখানেই লুকিয়ে থাকতে পারে এক গভীর কৌশল, মসজিদ থেকে মুসলমানদের দূরে সরিয়ে দেয়ার নীরব প্রয়াস।



banner close
banner close