ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে প্রশ্নফাঁস ও সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক আন্দোলনে অংশ নেওয়া নারী আন্দোলনকারীরা চরম অনলাইন হেনস্তা ও ধর্ষণের হুমকির শিকার হচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ক্ষমতাসীন সরকারের সমালোচনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার জেরে তাদের লক্ষ্য করে এসব হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া মধ্যপ্রদেশের ২৩ বছর বয়সী যোগ শিক্ষক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর শ্রদ্ধা সিং জানান, গত জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমর্থন জানাতে সেখানে যান তিনি। এ সময় দুই আরএএফ সদস্যকে নিয়ে সাত সেকেন্ডের একটি বিনোদনমূলক ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। পরে একটি ট্রল পেজ ভিডিওটি বিকৃত করে প্রচার শুরু করে। রাতারাতি মূলধারার একাধিক গণমাধ্যমে ভিডিওটি সম্প্রচারিত হলে বিজেপি সমর্থকেরা শ্রদ্ধার গাড়ির নম্বর প্লেটের সূত্র ধরে তার ফোন নম্বর ও ঠিকানা প্রকাশ করে দেয়।
শ্রদ্ধা সিংয়ের দাবি, ভিডিওটি প্রকাশের পর বিজেপি সমর্থক ও অজ্ঞাতপরিচয় ট্রল অ্যাকাউন্ট থেকে তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের ক্রমাগত খুন ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি তার মা ও বন্ধুদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট খুঁজে বের করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করা হচ্ছে।
এদিকে, ১৫ বছর বয়সী আন্দোলনকারী রুচিকা সিংও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ও যৌন হয়রানিমূলক মন্তব্যের শিকার হচ্ছেন। শুধু অনলাইন হেনস্তাই নয়, বিজেপি সমর্থক ও অধিকারকর্মীদের চাপে তার বিরুদ্ধে একাধিক থানায় ফৌজদারি মামলাও করা হয়েছে।
একই আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে রুচিকা সিংয়ের বিরুদ্ধে নয়ডার একটি থানায় এবং পরে দিল্লি পুলিশের অধীন নতুন দণ্ডবিধির ৩৫২, ৩৫৩(১) ও ৩৫৬(১) ধারায় ছয়টি পৃথক এফআইআর দায়ের করেন স্থানীয় এক বিজেপি নেত্রী। পাশাপাশি অনলাইনে তার ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি ও ফোন নম্বর ছড়িয়ে দিয়ে একদল সাইবার ট্রল তার ওপর মানসিক নিপীড়ন চালাচ্ছে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহরুখ আলম বলেন, কোনো সরকারি ব্যক্তির তীব্র সমালোচনা বা রসিকতা মানহানির পর্যায়ে পড়লেও পুলিশ সরাসরি এফআইআর করতে পারে না। এ ধরনের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীকেই ব্যক্তিগতভাবে মামলা দায়ের করতে হয়। তাই এই আইনি প্রক্রিয়ায় ত্রুটি রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বর্তমানে দুই তরুণীই চরম নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক চাপে দিন কাটাচ্ছেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর অনলাইনে আরও আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করে ডিজিটাল মাধ্যমে হেনস্তার চেষ্টা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, হুমকির মুখে অনেক নারী আন্দোলনকারী এখন ঘরের বাইরে বের হতেও ভয় পাচ্ছেন।
আরও পড়ুন:








