শুক্রবার

৩১ জুলাই, ২০২৬ ১৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩

মরক্কো থেকে স্পেনে ঢুকে পড়েছেন ৪৯ হাজার মানুষ, বিশৃঙ্খলায় নিহত ১৮

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৫৫

শেয়ার

মরক্কো থেকে স্পেনে ঢুকে পড়েছেন ৪৯ হাজার মানুষ, বিশৃঙ্খলায় নিহত ১৮
ছবি: সংগৃহীত

উত্তর আফ্রিকার স্পেন-শাসিত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সিউটা-তে নতুন করে সীমান্ত সংকট দেখা দিয়েছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মরক্কো থেকে হাজার হাজার অভিবাসী সমুদ্রে সাঁতরে, জলপথে এবং সীমান্তের বেড়া টপকে সেউটায় ঢুকে পড়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পেন সরকার অতিরিক্ত সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করেছে। এই গণ অনুপ্রবেশের ঘটনায় অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ঢুকে পড়েছেন প্রায় ৪৯ হাজার মানুষ।

বৃহস্পতিবার বিপুল সংখ্যক মানুষ সীমান্ত বেড়া ভেঙে ফেলায় সীমান্ত সংকট চরমে ওঠে। তা সামাল দিতে সিউটার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মাদ্রিদের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অতিরিক্ত সেনা চেয়ে আবেদন করে। এর পরই স্পেন সরকার আরও সশস্ত্র বাহিনী পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয়।

সিউটাতে সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী স্পেনের সিভিল গার্ড সমিতির প্রধান রশিদ সবিহি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘কত শরণার্থী এর মধ্যে এসেছেন তার সঠিক সংখ্যা দেয়া সম্ভব নয়, তবে হাজার হাজার শরণার্থী সীমান্ত পার হচ্ছে।’ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

শরণার্থীদের ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, হাজার হাজার মানুষ সীমান্ত টপকে সমুদ্রপথে ঢুকেছেন স্পেনে। সমুদ্র সৈকত ও তার আশপাশের রাস্তায় হেঁটে বেড়াচ্ছেন বহু শরণার্থী। বহু মহিলা-শিশুও রয়েছে তাদের মধ্যে।

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত কয়েক বছরের মধ্যে এটি সিউটায় সবচেয়ে বড় অভিবাসী অনুপ্রবেশের ঘটনা। হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে সীমান্তে পৌঁছে যাওয়ায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী কার্যত চাপে পড়ে যায়। বহু মানুষ সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে স্পেনের ভূখণ্ডে পৌঁছনোর চেষ্টা করেন, আবার অনেকে সীমান্তের উঁচু বেড়া টপকে ভিতরে ঢুকে পড়েন। এই ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় তীব্র বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।

সিউটাতে অবস্থিত স্পেনের সরকারি প্রতিনিধিদল জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের বিশৃঙ্খলার সময়ে অন্তত নয়জন মারা গেছেন। এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে পানিতে অনেকের মৃতদেহ ভাসতে দেখা গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, এ বছর সিউটাতে পৌঁছনোর চেষ্টা করতে গিয়ে কয়েক ডজন মানুষ মারা গেছেন।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে স্পেন সরকার সেনাবাহিনী, অতিরিক্ত পুলিশ এবং বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে। সিউটার অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলো এরইমধ্যে উপচে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এত বিপুল সংখ্যক অভিবাসীকে সামাল দেয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে স্পেন ও মরক্কো দ্রুত বৈঠকে বসে অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্যে পৌঁছেছে। মরক্কোও সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে। দুই দেশ যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, সিউটা আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত হলেও এটি স্পেনের অংশ এবং সেই সূত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নেরও অংশ। ফলে মরক্কো বা আফ্রিকার অন্যান্য দেশ থেকে বহু মানুষ ইউরোপে প্রবেশের প্রবেশদ্বার হিসেবে সিউটাকে বেছে নেন। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব, সামাজিক অস্থিরতা এবং সীমান্ত নীতিতে পরিবর্তনের গুজব এই অভিবাসী ঢলের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, শরণার্থী সংকট গোটা বিশ্বের জন্য মাথা ব্যথার কারণ। ২০২১ সালেও সিউটায় একই ধরনের শরণার্থী সংকট দেখা দিয়েছিল। এবারও সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ায় ইউরোপে অভিবাসন নীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং মানবিক সংকট নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীরা স্পেন সরকারের সমালোচনা শুরু করেছে, অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলি শরণার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছে।

পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শুক্রবার স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কার সিউটা সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, সিউটার আঞ্চলিক সরকারের প্রধান হুয়ান জেসুস ভিভাস জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি সেনা মোতায়েনও প্রয়োজন।



banner close
banner close