বৃহস্পতিবার

৩০ জুলাই, ২০২৬ ১৫ শ্রাবণ, ১৪৩৩

পাচারকারী ও হাঙরের থাবায় হাজারো স্বপ্ন

নিউজ ডেস্ক: বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ৩০ জুলাই, ২০২৬ ১৯:০২

শেয়ার

পাচারকারী ও হাঙরের থাবায় হাজারো স্বপ্ন
ছবি সংগৃহীত

সোনার দেশ ছেড়ে পাচারকারী ও হাঙরের থাবায় হাজারো মানুষ। হাজারো স্বপ্ন তলিয়েছে ভূমধ্যসাগরে; পরিবার প্রিয়জনের অপেক্ষায়, সরকার রেমিটেন্সের।

এই অজানা পথ পাড়ি দিতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরে স্বপ্ন ডুবিয়েছে হাজারো বাংলাদেশি। শ্রমবাজার সংকুচিত হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েও বিদেশে যাওয়ার এই সংখ্যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য বলছে, ইউরোপে যাওয়ার জন্য প্রতিবছর ভূমধ্যসাগরে হারিয়ে যাচ্ছে হাজারো প্রাণ। যাঁদের অনেকের লাশটাও পাওয়া যায়নি। যাদের বেশির ভাগই বাংলাদেশি।

সাগরে পচে গলে মাছের খাবার

এভাবে সাগরে পচে গলে মাছের খাবার হচ্ছে একটি অংশ। এতো বিপদজনক হওয়া সত্ত্বেও একটি চক্র প্রলোভন দেখিয়ে তৈরি করছে প্রতারণার ফাঁদ। আর তারা হলো পাচারকারী।

এভাবে অভিবাসনের নামে বাড়ছে মানব পাচার। আর পাচারকারীদের অর্থ দিতে না পারলে চলে নির্যাতন। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্য বলছে, ইতালি যেতে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়া নাগরিকদের মধ্যে গত কয়েক বছরের মতো চলতি বছরও বাংলাদেশিরা শীর্ষে। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি বা গ্রিস যেতে ইচ্ছুক মানুষদের পাঠানো হয় লিবিয়ায়। আর লিবিয়ার অনেক ক্যাম্পে তাঁদের জিম্মি করে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এ বছরের মার্চে লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে অন্তত ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়।

মামলার স্তূপ

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মানব পাচার–সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালেই মানব পাচার আইনে ১ হাজার ১২৬টি নতুন মামলা হয়েছে। আর পুরোনো মামলাসহ ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ২৮৪টি মামলা ঝুলে আছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩০৬টি মামলা বিচারাধীন এবং ১ হাজার ৯৭৮টি মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পালিত হলো বিশ্ব মানব পাচারবিরোধী দিবস।

দিবসে মানুষের চাওয়া

দিবসটিতে মানুষের চাওয়া, সরকার শুধু রেমিটেন্সের দিকে না তাকিয়ে, শ্রমবাজারের প্রতি গুরুত্ব দেবে। বিদেশ যাত্রা সহজ করবে। দেশে মানুষদের যেনো দালাল ও পাচারকারীদের খপ্পরে পড়তে না হয়।



banner close
banner close