বৃহস্পতিবার

৩০ জুলাই, ২০২৬ ১৫ শ্রাবণ, ১৪৩৩

গাজায় যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলে ভারতের ২৫৯৬ অস্ত্র চালান: অ্যামনেস্টি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৫২

শেয়ার

গাজায় যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলে ভারতের ২৫৯৬ অস্ত্র চালান: অ্যামনেস্টি
ছবি সংগৃহীত

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চলাকালে দেশটিতে কমপক্ষে ২ হাজার ৫৯৬টি অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের চালান পাঠিয়েছে ভারত। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এসব চালান ইসরায়েলে পাঠিয়েছে বলে দাবি করেছে মানবাধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশিত সংস্থাটির ‘মেড ইন ইন্ডিয়া: দ্য সাপ্লাই অব উইপনস অ্যান্ড অ্যামিউনিশন টু ইসরায়েল’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময়ের মধ্যে ভারতে উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম ইসরায়েলে রপ্তানি করা হয়। এর মধ্যে ছিল ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৯৭০টি বিস্ফোরক অস্ত্রের অংশ, যার মধ্যে ড্রোন ওয়ারহেড, আর্টিলারি শেলের কেসিংসহ অন্যান্য উপাদান রয়েছে। এছাড়া সামরিক মানের অস্ত্রের জন্য ৩ লাখ ৯০ হাজার ৫১৬টি ক্ষুদ্র অস্ত্রের যন্ত্রাংশ এবং ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনীর সরবরাহকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য সামরিক যানবাহনের ২৯৮টি যন্ত্রাংশ পাঠানো হয়।

অ্যামনেস্টির তথ্যমতে, এসব চালানের মধ্যে বিপুল পরিমাণ মেশিনগানের যন্ত্রাংশ, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসের জন্য ১৫৫ মিলিমিটার উচ্চ বিস্ফোরক কামানের গোলা, খান ইউনিসে উদ্ধার হওয়া স্কাইস্ট্রাইকার ‘কামিকাজে’ ড্রোনের বিস্ফোরক ওয়ারহেড এবং সাঁজোয়া যানের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

প্রতিবেদনটি গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ভারতের সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে প্রকাশিত ধারাবাহিক অনুসন্ধানের সর্বশেষ সংযোজন বলে উল্লেখ করেছে অ্যামনেস্টি। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে ফিলিস্তিনি নেতৃত্বাধীন ‘বয়কট, বিনিয়োগ প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা’ (বিডিএস) আন্দোলন এবং ‘নো হারবার ফর জেনোসাইড’ (এনএইচজি) আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভারত থেকে ইসরায়েলে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয়ে সতর্ক করেছিল।

এদিকে, ইসরায়েলি কর কর্তৃপক্ষের (আইটিএ) আমদানি তথ্যের ভিত্তিতে আলজাজিরার এক অনুসন্ধানে বলা হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ইসরায়েলে সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্রসংশ্লিষ্ট পণ্য রপ্তানিতে ভারত ছিল বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ।

অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক শুল্ক শ্রেণিবিন্যাসের ‘হারমোনাইজড সিস্টেম’ (এইচএস) কোড ৯৩০১ থেকে ৯৩০৭ এবং ৮৭১০-এর আওতাভুক্ত রপ্তানি তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে। যেসব চালানের সামরিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বা যেগুলো দ্বৈত ব্যবহারের আওতায় পড়তে পারে, সেগুলো বিশ্লেষণের বাইরে রাখা হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে ভারত সরকার ও সংশ্লিষ্ট নয়টি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠি পাঠানো হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর এক বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যার ঝুঁকির বিষয়টি স্বীকৃতি দেওয়ার পরও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে অজ্ঞতার দাবি করতে পারে না। তার ভাষ্য, গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকার সময় ভারতীয় কোম্পানিগুলো প্রতিরক্ষা খাতে সমরাস্ত্র সরবরাহ করে মুনাফা অর্জন করেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার পর গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। এরপর থেকে চলতি বছরের ২৯ জুলাই পর্যন্ত অন্তত ২ লাখ ৪৭ হাজার ৩৮৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত বা আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।



banner close
banner close