গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সীমান্ত সুরক্ষা এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার দাবিতে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ পদযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। কর্মসূচি উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে আওয়ামী লীগ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপিকে নিয়ে কড়া বক্তব্য দেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় আজমিরীগঞ্জ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। এছাড়াও কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক সমাবেশে অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সীমান্ত সুরক্ষা এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এনসিপির আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা।
বক্তব্যে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, 'দেশের ১ হাজার ৪০০ সন্তানকে যারা হত্যা করেছে এবং যারা তাদের পক্ষে কথা বলে, তাদের কথা শোনার সময় জনগণের নেই।' তিনি বলেন, বৈষম্যমূলক চাকরি ব্যবস্থা ও কোটা প্রথার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছিল। সেই আন্দোলনে গুলি চালিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, 'জনগণ আর কোনোভাবেই শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে আসার সুযোগ দেবে না।'
তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালের বিনাভোটের নির্বাচন, ২০১৮ সালের রাতের ভোট এবং ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচন দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এসব ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান সরকারও যদি ফ্যাসিবাদী আচরণের পুনরাবৃত্তি করে, তাহলে জনগণ তাদের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেবে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে সারজিস আলম বলেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন নিয়ে জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সরকারের অন্যায় সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিলে জনগণ তা মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, তিনি একজন গ্রামের সন্তান হিসেবে বৈষম্যমূলক কোটা ব্যবস্থা ও দলীয় প্রভাবের বিরুদ্ধে বিবেকের তাড়নায় আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিলেন। সে সময় লাখো ছাত্র, শ্রমিক, যুবক এবং সাধারণ মানুষ কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশের পরিবর্তন আনতে হলে সবাইকে সচেতন হতে হবে। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভোগী সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের সেবক, শাসক নন। তিনি অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জে গড়ে ওঠা বিভিন্ন শিল্প-কারখানার মালিকরা এ অঞ্চলের নানা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলেও স্থানীয় মানুষের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখছেন না। বরং কম বেতনে স্থানীয় তরুণদের শ্রমকে কাজে লাগানো হচ্ছে।
নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী আরও বলেন, “তারেক রহমানের দ্বারা বাংলাদেশের পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তিনি সমাজের সবচেয়ে খারাপ লোকদের পার্লামেন্টে নিয়ে গিয়েছেন।” একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীরা মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত।
সমাবেশ শেষে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের নেতৃত্বে আজমিরীগঞ্জ শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটি পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। পদযাত্রা শেষে নেতারা গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
আরও পড়ুন:








