মঙ্গলবার

২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩

হত্যা ছাড়াই আন্দোলন সামলাল মোদি সরকার

নিউজ ডেস্ক: বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৫

শেয়ার

হত্যা ছাড়াই আন্দোলন সামলাল মোদি সরকার
ছবি এআই মাধ্যমে তৈরি

ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা দেশব্যাপী আন্দোলন একটি হত্যাকাণ্ড ছাড়াই সমাধানের পথে এগিয়েছে। আলোচনা ও কৌশলগত নমনীয়তার মাধ্যমে এই আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে আনে নরেন্দ্র মোদির সরকার।

প্রশ্নফাঁস ঘিরে আন্দোলনের সূত্রপাত

গত মে মাসের শুরুতে নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশব্যাপী ক্ষোভ শুরু হয়। পরীক্ষাব্যবস্থায় জবাবদিহিতা ও সংস্কারের দাবিতে অভিজিৎ দিপকের নেতৃত্বে গঠিত হয় ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। সংগঠনটি শনিবার (২০ জুন) থেকে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান শুরু করে। পরবর্তীতে রবিবার (২৮ জুন) সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক এই আন্দোলনে যোগ দিলে তা বিশাল গণআন্দোলনে রূপ নেয়।

আলোচনায় সমাধানের কৌশল

লাখো শিক্ষার্থীর ক্ষোভ প্রশমনে চিরাচরিত বলপ্রয়োগের পথে বা ইগোর লড়াইয়ে হাঁটেনি মোদি সরকার। বরং সমাধানের খোঁজে দফায় দফায় আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনায় বসে তারা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই বারবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজির হয়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষে ইতিবাচক ভিডিও বার্তা দেন।

শুধু তাই নয়, তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ বুঝতে তিনি মন্ত্রীদের কড়া নির্দেশ দেন, দলীয় সভা-সমাবেশ বন্ধ রেখে সাধারণ ছাত্র-জনতাকে মূল্যায়ন করতে। এমনকি তাদের ভাষা বুঝতে মন্ত্রীদের ইনস্টাগ্রাম রিলস বানানোর মতো অভিনব পরামর্শও দেন তিনি।

পুলিশের পেশাদার ভূমিকা

এই পুরো প্রক্রিয়ায় ভারতীয় পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত পেশাদার। সিজেপির সংসদ চলো মার্চ কর্মসূচিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বোচ্চ কাঁদানে গ্যাস ও মৃদু লাঠিচার্জ ব্যবহার করেছে। এর বাইরে কঠোর কোনো দমন-পীড়ন বা প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার করা হয়নি। ফলে চলমান এই আন্দোলনে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হামলায় বা গুলিতে কোনো নিহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে পুলিশের মৃদু লাঠিচার্জ ও ধস্তাধস্তির কারণে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী বিভিন্ন পর্যায়ে আহত হয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশ কর্মকর্তারাই তাকে সেবা দিচ্ছেন।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গ ও সমঝোতা

অথচ এর ঠিক বিপরীত চিত্র দেখেছে বাংলাদেশ। শেখ হাসিনা ও তার অনুগত প্রশাসন অন্ধভাবে রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যবহার করে জুলাই-আগস্টে সাধারণ ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে মরণঘাতী বুলেট চালিয়েছে।

সরকারের কৌশলগত নমনীয়তায় সোমবার (২০ জুলাই) সিজেপির সাথে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়। দফায় দফায় বৈঠকের পর শিক্ষার্থীদের মূল দাবির মুখে শনিবার (২৫ জুলাই) পদত্যাগ করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।

দাবি আদায় ও আন্দোলন স্থগিত

সিজেপির নেতা আশুতোষ রাঙ্কা জানিয়েছেন, সরকার আত্মহত্যা করা নিট পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়েছে। এছাড়া শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেয়া সব শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে করা এফআইআর বা মামলা প্রত্যাহার করা হবে, যার লিখিত চুক্তি শিগগিরই সম্পন্ন হবে। পাশাপাশি র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা আরএএফ ও পুলিশের প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনার দাবিও রয়েছে শিক্ষার্থীদের।

সরকারের এই সদিচ্ছা ও দাবি আদায়ের পর দীর্ঘ ৩৭ দিনের টানা অবস্থান ও দরকষাকষির শেষে শনিবার (২৫ জুলাই) আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস। সরকারের ইতিবাচক সাড়ার কারণেই তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করছেন বলে জানান তিনি।

তবে সমঝোতার পাশাপাশি শৃঙ্খলার প্রশ্নেও কঠোর প্রশাসন। আন্দোলন ঘিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে যেসব আপত্তিকর ও অশালীন ট্রল বা পোস্ট করা হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মকে নোটিশ দিয়ে ইতোমধ্যে অধিকাংশ ভিডিও ও পোস্ট সরিয়ে ফেলা হয়েছে। যেমনটা হাসিনার আমলে বাংলাদেশেও দেখা যেত।



banner close
banner close