ভারতে টানা ৩৭ দিনের আন্দোলন স্থগিত করার ৪৮ ঘণ্টা না পেরোতেই আবারও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তরুণদের নতুন প্ল্যাটফর্ম তেলাপোকা বা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটির অভিযোগ, আটক আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হচ্ছে।
এ অবস্থায় সাম্প্রতিক আন্দোলনে গ্রেপ্তার হওয়া সব শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে সিজেপি। দাবি পূরণ না হলে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) থেকে আরও কঠোর কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে তারা। এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি পূরণ হওয়ায় অভিজিৎ দিপকের নেতৃত্বাধীন সিজেপি ‘সম্মানের খাতিরে’ দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান ৩৭ দিনের অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করেছিল।
তবে সোমবার (২৭ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেন, বিজেপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা সরকার মানছে না।
তিনি দাবি করেন, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে শত শত শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি দিল্লিতে আন্দোলনের লজিস্টিক সহায়তাকারী স্বেচ্ছাসেবকদের আটক এবং বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষার্থীদের নজরদারি ও হয়রানির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআর অবিলম্বে প্রত্যাহার, আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি এবং চুক্তি অনুযায়ী দিল্লি পুলিশ বা কেন্দ্র ও বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোর পুলিশ যেন নতুন কোনো মামলা না করে, সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে। অন্যথায়, তারা আবারও রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
তিনি আরও দাবি করেন, আলোচনায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মামলা প্রত্যাহারের লিখিত চুক্তি মঙ্গলবারের মধ্যেই সিজেপির হাতে তুলে দিতে হবে।
গত শনিবার কনস্টিটিউশন ক্লাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠকের পর সিজেপি জানিয়েছিল, নিট পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব এফআইআর প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকার নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।
সিজেপি সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করেছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, চার সপ্তাহ পর পরবর্তী দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই অনুষ্ঠিত ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির পর দেশজুড়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। শুরু থেকেই এসব মামলা প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা দাবি করে আসছে সিজেপি।
আরও পড়ুন:








