সোমবার

২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২ শ্রাবণ, ১৪৩৩

হামলায় খামেনির মৃত্যু, বেঁচে ফেরার বর্ণনা আরঘচির

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ জুলাই, ২০২৬ ১৮:১৯

শেয়ার

হামলায় খামেনির মৃত্যু, বেঁচে ফেরার বর্ণনা আরঘচির
ছবি সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। একই স্থানে উপস্থিত থাকলেও ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরঘচি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ওই হামলার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তী পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন তিনি।

হামলার মুহূর্তের বর্ণনা

ইরানি সাংবাদিক জাদ মৌগুয়িকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরঘচি জানান, হামলার ঠিক আগমুহূর্তে তারা খামেনির উপ-প্রধান কর্মী আলী আসগর হিজাজির কার্যালয়ে বৈঠক করছিলেন। সেখানে হিজাজির কাছে তিনি একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করছিলেন। ঠিক তখনই কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে পরপর তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে পুরো ভবন কেঁপে ওঠে।

তিনি জানান, তৃতীয় বিস্ফোরণটি তাদের ভবনের ঠিক পাশেই ঘটে। এতে অফিস কক্ষসহ ভবনের বাম দিক পুরোপুরি ধসে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই হিজাজির সচিব নিহত হন।

ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রাণে বাঁচার অভিজ্ঞতা

আরঘচি বলেন, তারা ভবনের অন্য অংশে অবস্থান করায় ছাদ ও দেয়াল ধসে পড়ার পরও প্রাণে বেঁচে যান। পরে বিম ও কাঠের স্তূপ সরিয়ে হিজাজির হাত ধরে চিৎকার শুনতে শুনতে কোনোমতে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের হয়ে আসেন। এ সময় পুরো চত্বরে বিভিন্ন স্থানে একের পর এক লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চলছিল।

তিনি আরও জানান, সরকারি গাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এক পথচারীর সহায়তায় তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছান। জীবনের ঝুঁকি এড়াতে বর্তমানে তেহরানে নিয়মিত গাড়ি পরিবর্তন করে অবস্থান নিচ্ছেন তিনি।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটির স্বীকারোক্তি

সাক্ষাৎকারে আরঘচি স্বীকার করেন, তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ত্রুটি ছিল। তিনি বলেন, যৌথ বাহিনী নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র নীতি পরিষদ ও প্রতিরক্ষা পরিষদের শীর্ষ পর্যায়ের যৌথ বৈঠক চলাকালে হামলা চালায়। এর ফলে প্রথম দিনেই শীর্ষ নেতৃত্বের বড় ক্ষতি করতে সক্ষম হয় তারা।

তিনি জানান, ওই ঘটনার পর প্রায় তিন দিন তারা সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলেন।

নতুন নেতৃত্ব ও হরমুজ পরিকল্পনা

আরঘচি জানান, খামেনির অবর্তমানে তার ছেলে মোজতাবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পেলেও এখনও তার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি। তবে এই ধারাবাহিকতা বিশ্ববাসীর কাছে তেহরানের কঠোর অবস্থান ও নীতি অপরিবর্তিত থাকার সুস্পষ্ট বার্তা দেয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, খামেনি আক্রান্ত হলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার একটি আগাম পরিকল্পনা সংবিধানের কোড ১১০ অনুসারে তৈরি করা হয়েছিল।

কূটনৈতিক আলোচনা ও পাল্টা হামলার সতর্কতা

চলতি বছরের শুরুতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করে আরঘচি বলেন, সাফল্যের আশা সামান্য হলেও কূটনীতির পথ বেছে নেওয়া দরকার ছিল, যাতে ইরানকে কেউ দোষারোপ করতে না পারে।

তিনি জানান, জেনেভায় শেষ দফা আলোচনায় চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হলেও ওমানের মধ্যস্থতাকারীরা তাদের জানান, ওয়াশিংটন হঠাৎ যুদ্ধংদেহী মনোভাব গ্রহণ করেছে। এর পরদিন সকাল ৯টার পরপরই যৌথ আক্রমণ শুরু হয়।

আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক করে আরঘচি বলেন, তাদের প্রতিবেশী দেশগুলোকে আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল ইরানের তেল ও পারমাণবিক স্থাপনা কিংবা শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর হামলা চালালে ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত করা হবে এবং গোটা অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানি অচল করে দেওয়া হবে।

হাজার বছরের সভ্যতা ও শিয়া মতাদর্শের গভীরতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে দুর্বল ভেবে আক্রমণ করলেও আত্মত্যাগের এই শক্তিকে সহজে পরাজিত করা সম্ভব নয়।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।



banner close
banner close