রবিবার

২৬ জুলাই, ২০২৬ ১১ শ্রাবণ, ১৪৩৩

কসম আর মন্দিরে যাবো না আমাদের আশ্রয় দেয়নি পুরোহিতরা

নিউজ ডেস্ক: বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ২৬ জুলাই, ২০২৬ ১৬:০৫

শেয়ার

কসম আর মন্দিরে যাবো না আমাদের আশ্রয় দেয়নি পুরোহিতরা
ছবি সংগৃহীত

কসম আর মন্দিরে যাবো না আমাদের আশ্রয় দেয়নি পুরোহিতরা বিপদে মন্দির বন্ধ; হিন্দুদের আশ্রয় দিলো মসজিদ! হিন্দু ছাত্রদের ত্রাতা মুসলিমরা ইনকিলাব জিন্দাবাদ ও নারায়ে তাকবীর স্লোগানে কাঁপছিলো ভারতের রাজপথ কসম করে বলছি, আর কোনোদিন মন্দিরে পা রাখবো না।‘ক্ষোভ আর বুকভরা হতাশা নিয়ে ঠিক এভাবেই বলছিলো হিন্দু তরুণরা। কিন্তু যে দেবতার আরাধনা তারা সারাজীবন করে আসছেন, আজ কেন হঠাৎ এমন কথা বলছে তারা? ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা 'নিট' প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থার অনিয়মের বিরুদ্ধে ৩ দফা দাবিতে রাজপথে নামে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি ।

পুলিশের হামলা ও মন্দিরের দরজা বন্ধ

নয়াদিল্লিসহ দেশজুড়ে টানা ৩৭ দিন ধরে চলে এই তীব্র বিক্ষোভ। শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলন দমাতে একপর্যায়ে চরম আগ্রাসী হয়ে ওঠে পুলিশ প্রশাসন। শুরু হয় বেধড়ক লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ। পুলিশের হামলা থেকে বাঁচতে আন্দোলনরত অসংখ্য তরুণ দৌড়ে যায় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। কিন্তু মন্দিরের পুরোহিতরা আশ্রয় দেয়ার বদলে ভেতর থেকে আটকে দেয় প্রধান ফটক। দেবতার ঘরের দরজা মানুষের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার এই দৃশ্য স্তব্ধ করে দেয় আন্দোলনকারীদের।

মসজিদে আশ্রয় ও মুসলিমদের সহায়তা

নিরুপায় যুবকরা যখন রাস্তায় আবারও পুলিশের হামলার মুখে পড়ার অপেক্ষায়, ঠিক তখনই পাশের একটি মসজিদের দরজা খুলে দেয়া হয়। ধর্ম-বর্ণের কোনো বিচার না করেই বিপন্ন এই তরুণদের পরম আশ্রয়ে টেনে নেয় মসজিদ কর্তৃপক্ষ। শুধু নিরাপদ আশ্রয়ই নয়, ক্লান্ত-বিধ্বস্ত এই তরুণদের পানি, খাবার সহায়তা করে স্থানীয় মুসলিমরা।

সবকিছু ছাপিয়ে ভারতবাসীর নজর কেড়েছে এই আন্দোলনে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং অকৃত্রিম সমর্থন। ভারতীয় শিক্ষার্থীদের মুখে মুখে ইনকিলাব জিন্দাবাদ ও নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার স্লোগানগুলো একই সাথে উচ্চারিত হয়ে আন্দোলনের তীব্রতা ও ধর্মীয় আবেগ প্রকাশ করে।

ভাইরাল ভিডিও ও কৃতজ্ঞতা

আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আন্দোলনরত ক্লান্ত এক শিক্ষার্থী ঘুমাচ্ছেন। পরম শান্তিতে সে যেন ঘুমাতে পারে, তাই এক মুসলিম ব্যক্তি তাকে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন। এছাড়াও, দিল্লির যন্তর মন্তরে দীর্ঘ আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাবার, পানি ও ঔষুধ বিতরণ করে ভারতীয় মুসলিমরা।

সিজেপি-র তিন দফার এই আন্দোলনে মুসলমানদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আন্দোলনকে আরও বেগবান করেছে বলে দাবি ভারতীয়দের। অথচ, নরেন্দ্র মোদী সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা দাড়ি-টুপি দেখলেই হেনস্থা করতো, জোর করে 'জয় শ্রীরাম' বলানোর মতো অমানবিক অভিযোগও ছিলো তাদের বিরুদ্ধে। সেই হিন্দুদেরই সহযোগিতা করে মানবিকতার পরিচয় দিলো দেশটির মুসলিমরা। বিপদের দিনে যারা ধর্ম দেখেনি, সেই মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে হিন্দু তরুণরা।

ভাই-ভাই উপলব্ধি

আন্দোলনরত ভারতীয় যুবকদের আজ একটাই উপলব্ধি, তারা এ দেশে ভাই-ভাই। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতেই সরকার এতোদিন তাদের মাঝে ধর্মের দেয়াল তুলে রেখেছিল। ধর্মীয় বিভেদ ভুলে এখন তারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যেকোনো অন্যায়ের প্রতিরোধ গড়তে প্রস্তুত বলেই দেখা গেছে ককরোচ পার্টি আর শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে।



banner close
banner close