জুলাই চব্বিশের উত্তাল গণঅভ্যুত্থানে যখন রাজপথ আর ভার্চুয়াল জগত ফ্যাসিবাদের ছায়ায় স্তব্ধ হয়ে পড়ছিল ঠিক সেই মুহূর্তে কিছু কণ্ঠ তাদের ভার্চুয়াল সৃজনশীলতা ও সাহসী অবস্থান নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন প্রতিরোধের সম্মুখভাগে। সেই কণ্ঠগুলোর অন্যতম ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক ও জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বনি আমিন। যে সৃজনশীলতা একদিন তাকে এনে দিয়েছিল লাখো শিক্ষার্থীর ভালোবাসা সেই সৃজনশীলতাই যেন আজ হয়ে উঠেছে তার জীবনের জন্য এক চরম হুমকি।
হামলার বিবরণ
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় তাকে মৌলবাদী আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগের একদল সন্ত্রাসী প্রকাশ্যে তার ওপর হামলা চালাচ্ছে। হামলার নেপথ্যে থাকা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ইতালি শাখার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের সম্পৃক্ততার অভিযোগও সামনে এসেছে। ঘটনাটি সামনে আসতেই দেশজুড়ে শুরু হয় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।
জানা যায় গত মঙ্গলবার রাতে ইতালির রোমের তোর পিনাতারা এলাকায় বনি আমিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। ভিডিওতে দেখা যায় প্রথমে এক ব্যক্তি বনি আমিনকে জাপটে ধরে রাখে। পরে তিনি সেখান থেকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে কয়েকজন তাকে ধাওয়া করে রাস্তায় ফেলে শারীরিকভাবে আঘাত করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া
তার ওপর হামলার এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন পেজ থেকে সেই হামলার ভিডিও শেয়ার করে ব্যঙ্গাত্মক ও হাস্যরসাত্মক পোস্ট দিতে দেখা যায়। এসব পোস্টে কখনো তাকে পাকিস্তানপন্থী বলে বিদ্রূপ করা হয়েছে আবার কখনো হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে আপ্যায়ন করা হয়েছে বলেও বিদ্রূপ করতে দেখা যায়।
গণমাধ্যম ও ব্যক্তিদের ভূমিকা
অপরদিকে বনি আমিনের ওপর হামলার ঘটনাটি বিকৃতভাবে উপস্থাপন করার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশের কিছু স্বনামধন্য গণমাধ্যমের বিরুদ্ধেও। সমালোচকদের অভিযোগ এসব গণমাধ্যমের নিউজ কার্ডে হামলাকারী আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট দুষ্কৃতিকারীদের প্রবাসী যুবক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বনি আমিনকে নিয়ে ব্যবহৃত ভাষাতেও তুচ্ছতাচ্ছিল্যের সুর ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত গোলাম রনির বিরুদ্ধেও বনি আমিনের ওপর হামলার ঘটনাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি এই ঘটনাকে অনেকের জন্য অসংহতি বলেও উল্লেখ করেন। এতে প্রশ্ন উঠেছে তিনি কাদের উদ্দেশ্যে এই বক্তব্য দিয়েছেন।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ঘেঁষা অভিনেতা স্বাধীন খসরুকেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বনি আমিনকে নিয়ে ব্যঙ্গ করতে দেখা যায়। একটি পোস্টে তিনি বনি আমিনের নাম বিকৃত করে বন্য আমিন লিখে তাকে হেয় করেন যা নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
সমালোচনা ও প্রেক্ষাপট
এ বিষয়ে কলামিস্ট ও ইসলামিক স্কলার শরিফ মোহাম্মদ তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বনি আমিনকে নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন নিউজ কার্ড শেয়ার করে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি তার পোস্টে ঘটনাটিকে বেদনাবহ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন এমন একটি ঘটনার উপস্থাপনায় কিছু গণমাধ্যমের ভাষা ও শিরোনামে যেন উল্লাসের আভাস রয়েছে। তিনি আরও বলেন এই ধরনের ন্যারেটিভ ভাষা কোনোভাবেই সভ্য ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
সব মিলিয়ে ঘটনাটি শুধু একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ওপর হামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই এটিকে জুলাইয়ের অবমাননা হিসেবেই দেখছে সচেতন মহলের একটা অংশ।
আরও পড়ুন:








