বৃহস্পতিবার

২৩ জুলাই, ২০২৬ ৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় ভারতের শিক্ষার্থী আন্দোলন

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ২৩ জুলাই, ২০২৬ ২০:৩৫

শেয়ার

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনায় ভারতের শিক্ষার্থী আন্দোলন
আন্তর্জাতিক, অঙ্গনে, আলোচনায় ,ভারতের, শিক্ষার্থী, আন্দোলন

দিল্লির যন্তর মন্তরে যেন নিঃশব্দে জন্ম নিয়েছে এক অস্থির সময়ের বিস্ফোরক ইতিহাস। টানা ৩৪ দিনের অবস্থান কর্মসূচি, লাঠিচার্জে রক্তাক্ত রাজপথ, আর তার মাঝেও অদম্য কণ্ঠে শিক্ষার্থীদের দাবির পুনরাবৃত্তি, এই দৃশ্য আর কেবল প্রতিবাদের নয়, বরং তা আজ অধিকার প্রতিষ্ঠার এক তীব্র বাস্তব প্রতিচ্ছবি। বিশ্লেষকদের ভাষায়, এটি শুধু একটি আন্দোলন নয়; বরং ক্রমশ রূপ নিতে থাকা এক সম্ভাব্য রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের অশনি-সংকেত।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবি

তাদের দাবি, ককরোচ জনতা পার্টির আহ্বানে জড়ো হওয়া তরুণদের কণ্ঠে আজ উচ্চারিত হচ্ছে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিচারের প্রতিধ্বনি। কিন্তু, সেই দাবি আর সীমাবদ্ধ নেই কোনো এক শহর বা প্রজন্মে, এটি ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে, মানুষের আবেগে, তাদের জমে থাকা ক্ষোভে, এক অদৃশ্য অগ্নিস্রোতের মতো, যা প্রতিনিয়তই বিস্তার লাভ করছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া

ভারতের গণ্ডি পেরিয়ে আন্দোলনের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে বাংলাদেশেও। বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যেও এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা দেখা যাচ্ছে।

সম্প্রতি ভারতের এই আন্দোলনের ছবি শেয়ার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক পিনাকী ভট্টাচার্য। সেখানে তিনি ভারতের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাদের শুভেচ্ছা জানান এবং জেন জেনারেশনের এই প্রতিবাদের সফলতার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।

অপরদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহকেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিওতে ভারতের শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। তিনি এই ঘটনাকে বাংলাদেশের ২৪ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো পুলিশি বর্বরতার সঙ্গে তুলনা করেন এবং এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানান।

একইভাবে, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া এবং নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীকেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ককরোচ পার্টির আন্দোলনের ছবি শেয়ার করে ভারতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাতে দেখা যায়।

মোদির ঘোষণা, তবুও আন্দোলন চলমান

এদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। চলমান ছাত্র বিক্ষোভ ও ককরোচ জনতা পার্টির প্রেক্ষাপটে এটিই তার প্রথম দৃশ্যমান প্রতিক্রিয়া। আন্দোলন শুরুর পর এই প্রথম তাকে সরাসরি এ বিষয়ে কথা বলতে দেখা গেল। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, বিশেষ করে আল জাজিরাসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। এছাড়া, বিশ্বের স্বনামধন্য বিভিন্ন গণমাধ্যমেও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে ভারতের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের এই সংবাদ।

তবে, নরেন্দ্র মোদির এই ঘোষণাও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের থামাতে পারেনি। তাদের দাবি স্পষ্ট, যতক্ষণ না ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে এমন বক্তব্য দিতে দেখা যায় ককরোচ জনতা পার্টির সভাপতি অভিজিৎ দিপকে।

বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে একপর্যায়ে বাংলাদেশেও, শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন কোটা সংস্কার করার। এমনকি হাইকোর্ট থেকে কোটা ব্যবস্থার নতুন নির্দেশনাও জারি হয়। তবে, ততদিনে শিক্ষার্থীদের দাবি পৌঁছায় ভিন্ন এক সমীকরণে। যেসব দাবিতে আন্দোলন চলমান রাখে শিক্ষার্থীরা। যারই ধারাবাহিকতাতে পতন হয় শেখ হাসিনার। ভারতেও যেন একইভাবে, মোদির ঘোষণার পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ

সব মিলিয়ে, পরিস্থিতি এখন আর কেবল একটি আন্দোলনের সীমায় আবদ্ধ নেই, এটি ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পূর্বাভাসে। শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর, সাধারণ মানুষের সমর্থন, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের দৃষ্টি, সবকিছু মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক জটিল কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বাস্তবতা।

বিশ্লেষকরা বলছে, এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠছে একটি বিষয়, দমন নয়, সংলাপই হতে পারে একমাত্র কার্যকর পথ। অন্যথায়, এই আন্দোলনের ঢেউ কোথায় গিয়ে থামবে, তা হয়তো এখনই নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।



banner close
banner close