বৃহস্পতিবার

২৩ জুলাই, ২০২৬ ৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩

ভারতের রাজপথে শিক্ষার্থীদের পাশে বলিউড তারকারা; বিপাকে মোদি সরকার

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ২৩ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৫২

শেয়ার

ভারতের রাজপথে শিক্ষার্থীদের পাশে বলিউড তারকারা; বিপাকে মোদি সরকার
ছবি সংগৃহীত

প্রশ্নফাঁস রোধ আর শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল ভারত। একদিকে শিক্ষার্থীদের হাতে জাতীয় পতাকা আর শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের দাবি, অন্যদিকে পুলিশের ব্যারিকেড, লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস আর ধরপাকড়। ভারতের এই দৃশ্য যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশের ২৪-এর জুলাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের কথা।

বলিউড তারকারা রাজপথে নামলেন

বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনে যেভাবে তারকা ও সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন, ঠিক একইভাবে এবার ভারতের চলমান ছাত্র আন্দোলনেও যোগ দিয়েছেন বলিউডের বড় বড় তারকারা। ভারতীয়রাও যেন হাঁটছেন বাংলাদেশেরই পথে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাহসী ও শান্তিপূর্ণ অবস্থানের প্রশংসা করে এবার তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই আন্দোলনকে যেন কোনোভাবেই রাজনৈতিকভাবে হাইজ্যাক করা না হয়।

এদিকে আমির খানের ভাগিনা ও বলিউড অভিনেতা ইমরান খান সরাসরি যোগ দিয়েছেন শিক্ষার্থীদের মিছিলে। মুম্বাইয়ের মিছিলে যোগ দেয়ার পাশাপাশি দিল্লির জন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন প্রবীণ অভিনেতা অনুপম খেরও। তবে তিনি আন্দোলনকে রাজনৈতিক সুযোগসন্ধানীদের হাতিয়ার হতে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ অবশ্যই শোনা উচিত, তবে তাদের মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হওয়া চলবে না।

সঙ্গীতশিল্পীদের সংহতি

শুধু অভিনেতারাই নয়, সংহতি জানিয়েছে সঙ্গীতশিল্পীরাও। গায়ক অরিজিৎ সিং এক বার্তায় লেখেন, ভারতের তরুণরা অমর, ঈশ্বর তাদের শক্তি দিন। উত্তপ্ত এই পরিস্থিতির প্রতি সম্মান জানিয়ে হানি সিং ও আরমান মালিক তাদের নতুন গান প্রকাশ স্থগিত করেছেন। অন্যদিকে রাজপথে সরাসরি আন্দোলনকারীদের পাশে বসেছেন প্রবীণ অভিনেত্রী শাবানা আজমি। অভিনেতা প্রকাশ রাজ, কৌতুক শিল্পী কুণাল কামরা এবং অভিনেত্রী স্বরা ভাস্করও রয়েছেন মাঠে। মঞ্চে উঠে প্রকাশ রাজ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গেই আছেন।

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের দমন-পীড়নের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দিলজিৎ দোসাঞ্জ। তার মতে, মতপ্রকাশের অধিকার কোনো সরকারের দয়া নয়, এটি সাংবিধানিক অধিকার। ক্ষোভ প্রকাশ করে সোনাক্ষী সিনহা বলেন, পুলিশের লাঠিচার্জে অনেকের হাড় ভেঙেছে, আর ভেঙেছে পুরো দেশের হৃদয়। প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, সাহস হারিও না, ন্যায়ের লড়াই চালিয়ে যাও। এছাড়াও প্রীতি জিনতা, স্বস্তিকা দত্ত, শ্রীলেখা মিত্র, দিয়া মির্জা, সোনু সুদ সহ আরও বহু শিল্পী ছাত্রদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন।

অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো

আর ভারতের এই ছাত্র আন্দোলন পুরোপুরি বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের রূপ পেয়েছে। বাংলাদেশে স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে যেভাবে অভিভাবকসহ আপামর জনসাধারণ ছাত্র-জনতার পাশে দাঁড়িয়েছিল তাদের জন্য খাবার, পানি, বস্ত্র ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিল, ঠিক একই চিত্র এবার দেখা যাচ্ছে ভারতের রাজপথে। ভারতের সাধারণ মানুষ এবং অভিভাবকরা ভয়ডরহীনভাবে রাস্তায় নেমে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের জন্য খাদ্য, পানীয় এবং চিকিৎসা সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন।

তবে এত কিছুর মধ্যেও বলিউডের অনেক শীর্ষ তারকা এখনো নীরব, যা জন্ম দিচ্ছে নতুন প্রশ্নের। একটি গণতান্ত্রিক দেশে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জবাব কি কেবলই লাঠিচার্জ আর কাঁদানে গ্যাস হতে পারে? এই প্রশ্নই এখন ভারতের রাজপথ ছাড়িয়ে পুরো সাংস্কৃতিক অঙ্গনে। বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ আর তারকাদের এই ঐক্যবদ্ধ স্রোত এখন ভারতের মোদি সরকারকে ফেলেছে চরম বিপাকে।



banner close
banner close