মঙ্গলবার

২১ জুলাই, ২০২৬ ৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩

দেশের পররাষ্ট্রনীতি বুঝতে ঢাকায় আসছেন মার্কিন বিশেষ দূত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ জুলাই, ২০২৬ ১১:৪০

শেয়ার

দেশের পররাষ্ট্রনীতি বুঝতে ঢাকায় আসছেন মার্কিন বিশেষ দূত
ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশের পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান এবং নতুন সরকারের বৈদেশিক নীতির দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিতে চলতি জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে ঢাকা সফরে আসছেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গোর। বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় পাঁচ মাস পর এটি হবে তাঁর প্রথম বাংলাদেশ সফর, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিয়মিত দ্বিপাক্ষিক সংলাপের বাইরে বিশেষ কৌশলগত উদ্দেশ্যেই সাধারণত এ ধরনের বিশেষ দূত নিয়োগ ও সফরের আয়োজন করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, সার্জিও গোরের সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য হবে নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার, আঞ্চলিক অবস্থান এবং বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের দিকনির্দেশনা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেওয়া।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আগামী ২৮ জুলাই দেশে ফিরবেন। তাঁর সফরসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মার্কিন বিশেষ দূতের কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

সার্জিও গোর ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট এবং ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে কাজের অভিজ্ঞতা থাকা গোর বর্তমানে সরাসরি হোয়াইট হাউসে রিপোর্ট করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের এক মাসের মাথায় এই সফর বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ওই সফরে মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন, তিস্তা নদী প্রকল্প, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চুক্তি হয়।

এ ছাড়া সম্প্রতি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ঢাকা সফর করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন। একই সময়ে সৌদি আরব ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকেও উচ্চপর্যায়ের সফরের আমন্ত্রণ এসেছে। অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সম্প্রতি রাশিয়া সফর করে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বিশ্লেষকদের ধারণা, সফরের আলোচ্যসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক বিশেষ গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, বিশেষ করে ইরান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিভিন্ন পরাশক্তির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি কীভাবে এগোচ্ছে, তা মূল্যায়নের জন্য এই সফর দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: দ্য টাইমস অব বাংলাদেশ



banner close
banner close