মঙ্গলবার

২১ জুলাই, ২০২৬ ৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩

ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ আটক, দিল্লিতে বিক্ষোভ অব্যাহত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৫৯

শেয়ার

ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ আটক, দিল্লিতে বিক্ষোভ অব্যাহত
ছবি সংগৃহীত

ভারতের যুব-নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচ মুভমেন্ট’ দাবি করেছে, তাদের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপককে পুলিশ আটক করেছে। সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানী দিল্লিতে ‘চলো সংসদে’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মধ্যেই এ দাবি জানানো হয়। একই সময়ে আন্দোলনের দুই নেতা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।

বৈঠক শেষে আন্দোলনের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, তারা মন্ত্রীর কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, নাড্ডা বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন এবং সেই প্রক্রিয়া চলছে।

মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির জাতীয় পরীক্ষা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে বিক্ষোভকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগ দাবি করছেন।

এই দাবিতে হাজার হাজার সমর্থক সোমবার সংসদ অভিমুখে মিছিলের চেষ্টা করলে দিল্লির জন্তর মন্তর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) ও তাদের সমর্থকেরা ‘চলো সংসদে’ কর্মসূচির জন্য জড়ো হলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দিল্লি পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

এর আগে রোববার দিল্লি পুলিশ কর্মসূচির অনুমতি না দিয়ে এলাকায় বড় ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। নিরাপত্তার কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রাজীব চক, জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট ও সেবা তীর্থসহ পাঁচটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়। এতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। শত শত যাত্রী বিকল্প ও দীর্ঘ পথ ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধ্য হন। রাজীব চক স্টেশনের প্রবেশ ও বহির্গমনপথে দীর্ঘ সারি ও ভিড় দেখা যায়।

এর আগে শনিবার আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২১ দিন ধরে অনশনরত শিক্ষাবিদ ও কর্মী সোনম ওয়াংচুককে জোর করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।

অভিজিৎ দীপকের প্রতিষ্ঠিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ চলতি বছরের মে মাসে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে একটি অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে যাত্রা শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা নামে পরিচয় দেন।

গত এক মাস ধরে আন্দোলনকারীরা দিল্লির ঐতিহাসিক জন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তাদের সঙ্গে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সদস্যরাও যোগ দিয়েছেন। টানা অনশনের কারণে সোনম ওয়াংচুকের ৯ কেজির বেশি ওজন কমেছে এবং তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অসুস্থতা সত্ত্বেও সংসদ অভিমুখে পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ওয়াংচুক। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি রসিকতার ছলে বলেন, প্রয়োজনে মৃত্যুর পরও তার আত্মা এই আন্দোলনের সঙ্গে থাকবে।

সফদরজং হাসপাতাল থেকে প্রকাশিত এক হাতে লেখা বার্তায় ওয়াংচুক দাবি করেন, তাকে অবৈধভাবে আটক করে জন্তর মন্তর থেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তিনি এখনও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সমর্থকদের সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বর্তমানে শারীরিক দুর্বলতার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওয়াংচুকের অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

নিজের বার্তায় সোনম ওয়াংচুক এই আন্দোলনকে ‘ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষায় অনিয়ম এবং তার ভাষায় অবৈধ আটকের মতো ঘটনার বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।



banner close
banner close