মঙ্গলবার

২১ জুলাই, ২০২৬ ৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩

ভিসা চালু হলেও ভারতে যাচ্ছেন না বাংলাদেশিরা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ জুলাই, ২০২৬ ১১:০৪

শেয়ার

ভিসা চালু হলেও ভারতে যাচ্ছেন না বাংলাদেশিরা
ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশিদের জন্য দীর্ঘদিন পর ভারতের ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালু হলেও প্রত্যাশিত হারে বাংলাদেশি পর্যটক ভারতে যাচ্ছেন না। ফলে কলকাতার বাংলাদেশি পর্যটকনির্ভর ব্যবসাকেন্দ্রগুলো এখনো আগের ব্যস্ততা ফিরে পায়নি। স্থানীয় ব্যবসায়ী, হোটেল মালিক ও পর্যটনসংশ্লিষ্টদের আশা ছিল ভিসা চালু হলে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক মন্দা কাটবে। তবে বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে উদ্বেগ

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের মন্তব্যে ভারত ভ্রমণে অনীহার কয়েকটি কারণ উঠে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন আলোচনায় অনেকেই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

নেটিজেন কাজী ইকবাল হোসেনের মতে, ব্যাগ তল্লাশি করে গরুর মাংস খোঁজার মতো অবাঞ্ছিত ঘটনার আশঙ্কা থাকায় নিরাপত্তাই এখন তাদের কাছে প্রধান বিবেচ্য বিষয়। আমিন বাবু নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যটকরা সবার আগে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও আতিথেয়তার নিশ্চয়তা চান।

এ ছাড়া ভারতের রাজনৈতিক দলগুলোর বিরূপ মন্তব্য ও আচরণও অনেক বাংলাদেশিকে মানসিকভাবে ভারত ভ্রমণ থেকে নিরুৎসাহিত করছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনায় উঠে এসেছে।

বিকল্প গন্তব্যে ঝুঁকছেন বাংলাদেশিরা

গত দুই বছর ভারতের ভিসা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অনেক বাংলাদেশি বিকল্প গন্তব্যের দিকে ঝুঁকেছেন। বিশেষ করে চীনে ভ্রমণ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ, দেশটির সরকার ও সাধারণ মানুষের আন্তরিকতা অনেককে আকৃষ্ট করেছে।

মামুন হাসান নামের এক নেটিজেনের মতে, শুধু ডলার খরচ করে কলকাতায় কেনাকাটা করার পরিবর্তে চীনে গিয়ে ব্যবসার সুযোগ তৈরি করা বা নতুন সম্ভাবনা খুঁজে নেওয়া অনেক বেশি লাভজনক ও সম্মানজনক। একই সঙ্গে মালদ্বীপ, থাইল্যান্ড, নেপাল, সিঙ্গাপুর ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশও এখন বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

ব্যবসা ও পর্যটন খাতে হতাশা

বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় কলকাতার ব্যবসায়ী ও পর্যটনশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা চরম হতাশার মধ্যে রয়েছেন। নিউ মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, তাদের ব্যবসার প্রায় ৭০ শতাংশ বাংলাদেশি ক্রেতাদের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বর্তমানে বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

মার্কুইস স্ট্রিট ও সদর স্ট্রিটের একাধিক হোটেল মালিক জানান, আগে মাসের বেশির ভাগ সময় সব কক্ষ বুকিং থাকলেও এখন দিনের পর দিন অর্ধেকের বেশি কক্ষ খালি পড়ে থাকছে। এতে কর্মীদের বেতন পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ট্রাভেল কোম্পানি ও ট্যুর অপারেটরদের মতে, বাংলাদেশিদের মধ্যে ভারত ভ্রমণ নিয়ে একটি মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে, যা রাতারাতি দূর হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাদের আশঙ্কা, পর্যটকদের মধ্যে নিরাপত্তা ও সম্মানের অনুভূতি পুনরুদ্ধার না হলে কলকাতার পর্যটননির্ভর ব্যবসা ও অর্থনীতি আরও গভীর সংকটে পড়তে পারে।



banner close
banner close