শনিবার

১৮ জুলাই, ২০২৬ ৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩

কুয়েত-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ জুলাই, ২০২৬ ১৮:০৯

শেয়ার

কুয়েত-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা
ছবি সংগৃহীত

কুয়েত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি সম্প্রসারিত প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। জ্বালানি সহযোগিতা ও বিনিয়োগের বিনিময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি।

শনিবার (১৮ জুলাই) ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে চলমান আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েত ও পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এই আলোচনা জটিল করে তুলতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (১৪ জুলাই) ইয়েমেনে ইরানের মিত্র হিসেবে পরিচিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা সৌদি আরবে হামলা চালানোর পর পাকিস্তান ইরানকে কঠোর বার্তা দেয়। পারমাণবিক শক্তিধর দেশটি জানায়, সৌদি আরবের ওপর যেকোনো ধরনের হামলাকে নিজেদের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করবে।

সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

রয়টার্সের বরাত অনুযায়ী, কুয়েতের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়া বিষয়ে একটি সীমিত প্রতিরক্ষা চুক্তি ২০২৩ সাল থেকে কার্যকর রয়েছে। তবে কুয়েত এখন সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মতো আরও বিস্তৃত নিরাপত্তা সহযোগিতা চাইছে।

পাকিস্তান সরকারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত সহযোগিতার আওতায় হাজার হাজার পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন, যুদ্ধবিমান, ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামরিক সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে পাকিস্তান এ পর্যায়ে এমন সিদ্ধান্ত নেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

মধ্যপ্রাচ্যের একটি সূত্রও নিশ্চিত করেছে, কুয়েত পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে রূপ নেবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

এদিকে পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা বলেছেন, একটি বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই, এ মুহূর্তে যুদ্ধের জন্য সেনা মোতায়েনের বিষয়টি আমরা বিবেচনা করছি না এবং করতে পারি না।

আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে উপসাগরীয় দেশগুলো পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানের বড় সামরিক বাহিনী এবং নিজস্ব যুদ্ধবিমান উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিকে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের একটি উপায় হিসেবে দেখছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব একটি নতুন পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির খসড়া প্রস্তুত করছে, যা সৌদি আরব ও পাকিস্তানের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির বাইরে পৃথক একটি উদ্যোগ। একই ধরনের চুক্তিতে আগ্রহ দেখিয়েছে বাহরাইন। এছাড়া অস্ত্র সরবরাহ ও সামরিক প্রশিক্ষণসংক্রান্ত চুক্তির বিষয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জর্ডান।

জ্বালানি সহযোগিতার সম্ভাবনা

পাকিস্তানের একটি সূত্র জানিয়েছে, দেশটিতে শুল্ক-সুবিধাসহ জ্বালানি সংরক্ষণাগার স্থাপনের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে কুয়েত। এটি দুই দেশের সরকারের মধ্যে আগে থেকে বিদ্যমান ডিজেল সরবরাহ চুক্তির ভিত্তিতে এগোতে পারে।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমে এলে এ বিষয়ে আলোচনা আরও গতি পেতে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতার এসব প্রস্তাব বৃহত্তর প্রতিরক্ষা চুক্তির দিকে এগোতে পাকিস্তানকে উৎসাহিত করতে পারে।



banner close
banner close