শুক্রবার

১৭ জুলাই, ২০২৬ ২ শ্রাবণ, ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পেতে হলে গুনতে হবে এক লাখ ডলার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ জুলাই, ২০২৬ ১৫:২৫

আপডেট: ১৭ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৩৯

শেয়ার

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পেতে হলে গুনতে হবে এক লাখ ডলার
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী) হতে ইচ্ছুক আবেদনকারীদের জন্য ১ লাখ ডলারের বন্ড বা জামানত বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, অভিবাসীরা যাতে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হন এবং সমাজ থেকে যতটা সুবিধা নেন তার চেয়ে বেশি অবদান রাখতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এই প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে, অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং বিদেশিদের ব্যয়বহুল চিকিৎসা বা অন্যান্য প্রয়োজনের কারণে সরকারি সুবিধার ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পরিহার করতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

পিগট জানান, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট (INA)-এর দীর্ঘদিনের একটি আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে (সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়া আশঙ্কা আছে) এমন কিছু ভিসা আবেদনকারীর কাছ থেকে বন্ড নেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এই বন্ডের মাধ্যমে তারা নিজেদের আর্থিক সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারবেন।

অবৈধ অভিবাসন দমনে ট্রাম্প প্রশাসন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে গণহারে বহিষ্কারসহ একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। পাশাপাশি ‘বার্থ ট্যুরিজম’ সীমিত করতেও নতুন আইন প্রস্তাব করা হয়েছো। অভিবাসীদের আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে ছয় অঙ্কের (১ লাখ ডলার) বন্ড আরোপের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি (H-1B) ভিসা আবেদনকারীদের জন্যও ১ লাখ ডলারের ফি চালুর চেষ্টা করেছিল। তবে, ফেডারেল আদালত সেই উদ্যোগ বাতিল করে জানায়, প্রশাসন তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে এবং অভিবাসন নীতি ও কর নির্ধারণের ক্ষমতা কংগ্রেসের।

বর্তমানে গ্রিন কার্ডের আবেদন ফি আবেদনকারীর ক্যাটাগরি এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে নাকি বাইরে থেকে আবেদন করছেন—তার ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে আবেদনকারীদের ফর্ম I-485-এর জন্য সাধারণত ১,৪৪০ ডলার ফি দিতে হয়। এছাড়া কর্মসংস্থানের অনুমতি (ওয়ার্ক পারমিট) ও ভ্রমণ সংক্রান্ত নথির জন্য আলাদা ফি প্রযোজ্য হতে পারে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে আবেদনকারীদের ডিএস-২৬০ (DS-260) ভিসা আবেদন ফি হিসেবে ৩২৫ ডলার এবং ভিসা অনুমোদনের পর মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (USCIS)-কে ২৩৫ ডলার ফি দিতে হয়। এসব শর্তের তুলনায় গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য ১ লাখ ডলারের বন্ড ব্যয়ের ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তন হবে।

প্রস্তাবিত নীতির আওতায় আবেদনকারী বা যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তার পরিবারের সদস্যরা এই অর্থ জমা দেবেন। নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে পরবর্তী সময়ে সেই অর্থ ফেরত দেয়া হবে।

গত আগস্ট থেকে মালাউই ও জাম্বিয়ার কিছু ভিসাধারীর ক্ষেত্রে ১৫ হাজার ডলারের বন্ড চালু করা হয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের নির্ধারিত সময় অতিক্রম করলে বা পরে আশ্রয়সহ অন্য কোনো অভিবাসন সুবিধার জন্য আবেদন করলে সেই অর্থ বাজেয়াপ্ত হতে পারে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকার আরও ৫০টি দেশের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রয়োগের কথা বলা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এর ফলে ৯৭ শতাংশ ভিসাধারী নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করেননি।

তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, এই নীতির কারণে ভিসা ইস্যুর সংখ্যা কমে গেছে।



banner close
banner close