হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করার পর এবার আরও বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ইরান। ইয়েমেনে মিত্রগোষ্ঠী হুথিদের দিয়ে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব-এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করাতে পারে তেহরান।
এতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন একটি ক্ষেত্র তৈরি হবে এবং বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি জ্বালানি পরিবহণপথই ঝুঁকির মুখে পড়বে। ইরানের অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা জোরদার হয়েছে, সমান্তরালে ইরানের মিত্র হুথিদের হামলাও বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান সংঘাতের আওতা বাড়িয়ে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে এবং উপসাগরীয় এলাকার বাইরে গিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করতে চাইছে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করে ইরান ইতিমধ্যে তার কৌশলগত শক্তির প্রভাব দেখিয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্তকারী বাব-এল-মান্দেব প্রণালিকেও এখন নতুন চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে দেশটি। সৌদি আরবের জ্বালানি তেল রপ্তানি এবং বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়েই হয়ে থাকে।
ইরানের প্রেস টিভির এক প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, গত সোমবার (১৩ জুলাই) হুথি প্রতিরোধ আন্দোলন আনসারুল্লাহর রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ সতর্ক করে বলেন, সৌদি আরব যদি ইয়েমেনে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে হুথি সশস্ত্র বাহিনী বাব-এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত আছে। তার দাবি, এমনটি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে ইয়েমেনে হামলা চালাতে উসকানি দিচ্ছে, তবে এ ধরনের উসকানি কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ হাসিল করবে না। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে হরমুজ ও বাব-এল-মান্দেব—দুই প্রণালিই একসঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি যদি ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী কৌশলগত হাতিয়ার হয়, তবে বড় চাপ তৈরির জন্য বাব-এল-মান্দেবই তাদের হাতে থাকা শেষ উপায়। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক ফাওয়াজ গেরগেস রয়টার্সকে বলেন, ইরান প্রয়োজনে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত। তাঁর মতে, তেহরান ওয়াশিংটনকে দেখাতে চাইছে যে তারা একই সঙ্গে হরমুজ ও বাব-এল-মান্দেব—দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিকেই ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে, যাতে সংঘাত দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের প্রধান সমুদ্রপথগুলোকেও হুমকির মুখে ফেলে।
আরও পড়ুন:








