ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সুভাস গ্রামের একটি নির্মাণাধীন চার্চে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় খ্রিস্টানদের দাবি, একদল ব্যক্তি ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে দিতে চার্চে প্রবেশ করে ক্রস, দরজা ও পিলার ভাঙচুর করে এবং খ্রিস্টান পরিবারগুলোকে হুমকি দেয়। এ ঘটনায় সম্পত্তি নষ্ট, অনধিকার প্রবেশ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
বিবিসি বাংলার ভিডিও প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ৫ জুলাই বুড়িবরতলা এলাকার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে নির্মাণাধীন চার্চটিতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দুপুর ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে হামলাকারীরা চার্চে ঢুকে তিনটি ক্রস ভেঙে ফেলে এবং দরজা ও পিলার ক্ষতিগ্রস্ত করে।
স্থানীয় বাসিন্দা শিউলি ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এলাকার খ্রিস্টান পরিবারগুলোর নাম ও ফোন নম্বরের তালিকা দাবি করে। পাশাপাশি পানি, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন সেবা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেয়। তাদের দাবি ছিল, হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় চার্চ নির্মাণ করা যাবে না। একই সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে মানুষকে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগও তোলে তারা।
আরেক বাসিন্দা বর্ণালি ভূঁইয়া বলেন, হামলাকারীরা তাদের শাখা-সিঁদুর পরার অধিকার নিয়েও আপত্তি জানায় এবং তাদের ধর্মান্তরিত বলে অভিযোগ করে। তিনি বলেন, হামলাকারীদের কাছে চার্চের ক্রস না ভাঙার অনুরোধ জানানো হলেও তারা তা উপেক্ষা করে।
স্থানীয়দের দাবি, হামলাকারীরা নিজেদের হিন্দু জাগরণ মঞ্চের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয়। তবে সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক তাপস বারিক বলেন, তাদের কর্মীরা ওই ঘটনায় জড়িত ছিলেন কি না, তা তার জানা নেই। তবে তিনি জোরপূর্বক বা প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরের বিরোধিতার কথা জানান।
অন্যদিকে, খ্রিস্টান সংগঠনগুলো জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, এ ধরনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় সম্পত্তি নষ্ট, অনধিকার প্রবেশ এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনজনকে আটক করা হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেনি।
এদিকে খ্রিস্টান কল্যাণ সংস্থা বঙ্গীয় খ্রিষ্টীয় পরিষেবা বলেছে, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সংস্থাটির দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমানসহ বিভিন্ন এলাকায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হেরোদ মল্লিক জানান, গত দুই সপ্তাহে অন্তত চারটি বড় ধরনের ঘটনার তথ্য তাদের কাছে এসেছে, যা স্থানীয় খ্রিস্টানদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়েছে।
আরও পড়ুন:








