ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন করে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। কুকি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মেইতেইদের বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগের পর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া জাতিগত সংঘাতের ধারাবাহিকতায় পরিস্থিতি আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শনিবার সংঘটিত সহিংসতার পর কয়েকটি এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মেইতেই সম্প্রদায়ের এক নারী অভিযোগ করেন, কুকি সম্প্রদায়ের কিছু ব্যক্তি তাদের বাড়িঘরে আগুন দেয়। বাধা দিতে গেলে নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে তাদের সরে যেতে বাধ্য করে।
চলতি বছরের শুরুতে পশ্চিম ইম্ফলের লেলন ভাইফেই গ্রামের কাছে অপহৃত ১৮ জনের মধ্যে ছয়জনের খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গত ১০ জুন তাদের দেহাবশেষের অবশিষ্টাংশ উদ্ধারের পর থেকে ওই এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং স্থানীয় সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে তারা মনে করছেন।
মণিপুরে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয় ২০২৩ সালে। সে সময় মেইতেই সম্প্রদায় তফসিলি উপজাতির মর্যাদা দাবি করলে কুকি সম্প্রদায় পৈতৃক জমি হারানোর আশঙ্কায় আন্দোলনে নামে। পরবর্তীতে নাগা সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততায় সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়।
দীর্ঘস্থায়ী এই জাতিগত সহিংসতায় গত এক বছরে প্রায় ২৬০ জন নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৬০ হাজারের বেশি মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও রাজ্যে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আরও পড়ুন:








