যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযানে ভারতভিত্তিক তিনটি বড় অপরাধ চক্রের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া হয়েছে। মাদক পাচার, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও ভাড়াটে খুনসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৩৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
‘অপারেশন হার্ড বল’ নামে পরিচালিত এই দীর্ঘমেয়াদি অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অংশ নেয়। ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ৪২টি স্থানে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ হাজার কেজি কোকেন, ১ কেজি হেরোইন, এক ডজন আগ্নেয়াস্ত্র এবং প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন ডলার নগদ অর্থ জব্দ করা হয়।
তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, কানাডার নাগরিক রভিন্দর সিং ধান্দা বাণিজ্যিক ট্রাক ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় শত শত কেজি কোকেন ও মেথামফেটামিন পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
মার্কিন ফেডারেল কৌঁসুলিদের দাখিল করা তিনটি পৃথক অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের জুনে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন ভারতের কারাবন্দী গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই এবং তার সহযোগী সতীন্দরজিৎ সিং ওরফে গোল্ডি ব্রার।
অভিযোগ অনুযায়ী, ভারতের কারাগারে থাকা অবস্থায় বিষ্ণোই নিজ্জারের ছবি ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য হামলাকারীদের কাছে পৌঁছে দেন। গোল্ডি ব্রার এখনও পলাতক রয়েছেন।
তবে এই অভিযোগে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততার বিষয়টি অভিযোগপত্রে নিশ্চিত করা হয়নি। ২০২৩ সালে নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে ভারতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছিল কানাডা, যদিও ভারত সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিল। ওই ঘটনার পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
মার্কিন সহকারী অ্যাটর্নি বিল এসাইলি বলেন, আন্তঃদেশীয় অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে এই অভিযান একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তার ভাষ্য, যারা ভয় ও সহিংসতার মাধ্যমে অপরাধ পরিচালনা করে, তাদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ চালিয়ে যাবে।
কানাডার বিচারমন্ত্রী শন ফ্রেজার অভিযানটিকে ‘অসাধারণ সাফল্য’ উল্লেখ করে বলেন, এটি দেশটির বিভিন্ন কমিউনিটিকে আরও নিরাপদ করতে সহায়ক হবে।
এদিকে, কানাডাভিত্তিক শিখ সংগঠন ওয়ার্ল্ড শিখ অর্গানাইজেশন অব কানাডা এবং শিখ ফেডারেশন অভিযানের প্রশংসা জানিয়ে নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে সম্ভাব্য সব পক্ষের ভূমিকা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে নতুন তথ্য সামনে আসে কি না, সেদিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন:








