আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি ‘শেষ’ বলে ঘোষণা দেওয়ার পর টালমাটাল অবস্থা ভারতের শেয়ারবাজারের। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে উধাও হয়ে গেছে আট লাখ কোটি রুপি। এদিন বেঞ্চমার্ক ইক্যুইটি সূচক সেনসেক্স ও নিফটি-দুটিতেই তীব্র পতন ঘটে। ট্রাম্পের ঘোষণার পর ভারত ছাড়াও বিশ্বের বড় বড় শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন ঘটে।
গতকাল বুধবার ভারতের প্রধান শেয়ার সূচক নিফটি ২ দশমিক ১২ শতাংশ কমে ২৩ হাজার ৮৮২ দশমিক ০৫ পয়েন্টে এবং বিএসই সেনসেক্স ২ দশমিক ১৫ শতাংশ কমে ৭৬ হাজার ৫০৩ দশমিক ৬০ পয়েন্টে থেমে যায়। গত তিন মাসের মধ্যে এটিই উভয় সূচকের সবচেয়ে বড় পতন।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় তেলের দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যায়। ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর প্রতিশোধ হিসেবে তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায়।,
নতুন করে সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৯ ডলারে পৌঁছায়। এর প্রভাবে ইউরোপের স্টক্স ৬০০ সূচকও তিন মাসের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ দিনের মুখোমুখি হয়। এশিয়ার বিভিন্ন শেয়ারবাজারেও পতন দেখা যায়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের ফিউচারও প্রায় ১ শতাংশ করে কমে যায়।,
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ও ভোক্তা দেশ ভারত। ফলে তেলের দাম বাড়লে দেশটির আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পায়, মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এদিন ভারতীয় রুপি শূন্য দশমিক ৬২ শতাংশ দুর্বল হয়ে প্রতি ডলারের বিপরীতে ৯৫ দশমিক ৫৫৫ রুপিতে নেমে আসে।
ওয়েলথমিলস সিকিউরিটিজের ইক্যুইটি স্ট্র্যাটেজির পরিচালক ক্রান্তি বাথিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ আবার জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের দামের বিষয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা ভারতের শেয়ারবাজার ও সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য ঝুঁকির বিষয়। তার ভাষায়, এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নতুন করে অর্থ তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে, যা ঘুরে দাঁড়ানোর পথে থাকা বাজারের পুনরুদ্ধারকে ধীর করে দিতে পারে।
বাজারসংশ্লিষ্ট দুই ট্রেডার জানান, দিনের শেষভাগে বাজারে বড় ধরনের বিক্রির চাপের পেছনে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। টানা তিনদিন নিট বিনিয়োগের পর অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা আবার সামষ্টিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পছন্দের খাতগুলোর মধ্যে আর্থিক খাতের সূচক ২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতের সূচক ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। বাজারের ১৬টি প্রধান খাতের সবগুলোতেই দরপতন হয়েছে।
এছাড়া তেল বিপণন কোম্পানি, রঙ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, বিমান পরিবহন কোম্পানি এবং টায়ার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের শেয়ারেও বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। কারণ, তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের মুনাফার মার্জিন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র : রয়টার্স
আরও পড়ুন:








