ওমানের উপকূলে একটি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে জাহাজটিতে আগুন লাগে। ইরানের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর এবং দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন প্রক্রিয়ার মধ্যেই এ হামলার খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওমানের উপকূলীয় এলাকা লিমাহর পূর্বে একটি ট্যাংকার অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউকেএমটিও জানায়, ওমান উপকূল থেকে ৮ নটিক্যাল মাইল পূর্বে দক্ষিণমুখে চলাচলরত ট্যাংকারটির বাম পাশে প্রজেক্টাইলটি আঘাত হানে। এতে জাহাজটিতে আগুন লাগে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সতর্ক করেছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানের সামরিক কমান্ডের অনুমোদিত পথ ছাড়া অন্য কোনো পথে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্ট জাহাজকে 'কঠোর জবাব' দেওয়া হবে।
এর আগে ইরানের সামরিক কমান্ড জানায়, হরমুজ প্রণালিতে নির্ধারিত পথ থেকে বিচ্যুতি বা নৌ চলাচলের প্রোটোকল লঙ্ঘনের যেকোনো ঘটনার বিরুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনী তাৎক্ষণিক ও কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এ নির্দেশনা অমান্যকারী জাহাজের নিরাপত্তার কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হবে না।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) এক বিবৃতির পর ইরান এ সতর্কবার্তা দেয়। সেন্টকম জানায়, বাহরাইনে অনুষ্ঠিত একটি নিরাপত্তা সংলাপে আঞ্চলিক নেতারা হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি গত বৃহস্পতিবার সেন্টকমের ওই বিবৃতির সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের ফোরাম পারস্য উপসাগরে আইনি শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা মেনে নেওয়ার মাধ্যমেই এ অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো। তবে দুই পক্ষের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তিতে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের চলমান আলোচনায় বিষয়টি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবন্ধকতায় পরিণত হয়েছে।
গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে ইরান প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়। এরপর থেকে উপকূলের কাছাকাছি নির্ধারিত পথ ব্যবহার না করা জাহাজগুলোকে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে তেহরান।
মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে অন্তত ৮৯টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ও শনিবার যথাক্রমে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ এবং পানামার পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলাসহ বেশিরভাগ ঘটনার জন্য তেহরানকে দায়ী করা হয়েছে।
গত ১৭ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করার পর থেকে নৌপথে জাহাজ চলাচল বেড়েছে। তবে যুদ্ধ শুরুর আগের দৈনিক প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচলের তুলনায় বর্তমান সংখ্যা এখনও অনেক কম। মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার অন্তত ৪৫টি এবং মঙ্গলবার ৩৪টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।
সূত্র: আল জাজিরা।
আরও পড়ুন:








