সোমবার

৬ জুলাই, ২০২৬ ২২ আষাঢ়, ১৪৩৩

কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬ জুলাই, ২০২৬ ২১:৪২

শেয়ার

কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ
ছবি সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার বারুইপুরে ১১ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে গোটা এলাকা ক্ষোভে ফেটে পড়েছে। নৃশংস এই ঘটনার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করে রাস্তায় নেমেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে পুলিশের প্রাথমিক ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, গত শনিবার সন্ধ্যায় বন্ধুর জন্মদিনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় শিশুটি। পরিবারের অভিযোগ, রাতেই থানায় জানানো হলেও পুলিশ যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। পরদিন রোববার ভোরে একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার অর্ধনগ্ন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে প্রাথমিক ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার পর শোকে ও ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। বিক্ষোভকারীরা বারুইপুর–জয়নগর সড়ক অবরোধ করেন এবং শিয়ালদহ–নামখানা রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেলে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, ‘মাগরিবের নামাজের পরে ওই নির্যাতিতা কিশোরী তার বন্ধুর জন্মদিনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু রাত আটটার পর থেকে তার আর কোনও খবর পাওয়া যাচ্ছিল না। রাতে প্রায় সাড়ে আটটা নাগাদ আমরা থানায় যোগাযোগ করেছিলাম কিন্তু পুলিশ গুরুত্ব দিচ্ছিল না। পরে রোববার (৫ জুলাই) সকালে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তকে আমরাই ধরে ফেলি।’

তিনি আরও বলেন, দোষী নিজেই থানায় দোষ স্বীকার করেছিল ও তাকে সঙ্গে নিয়েই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করি। তবে শান্তনু মণ্ডল নামে এক স্থানীয় বিজেপি নেতা ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তকে নিয়ে পালিয়ে যায়।’

তিনি শান্তনু মণ্ডল বলে যার নাম উল্লেখ করছিলেন, তিনি হলেন বারুইপুর পশ্চিম তিন নম্বর অঞ্চলের বিজেপির জেনারেল সেক্রেটারি।

অন্য একজন স্থানীয় বাসিন্দা সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানান, শান্তনু মণ্ডল প্রথমে স্থানীয়দের ওই পুকুরের কাছে যেতে বাধা দেন এবং আসামিকে আড়াল করার চেষ্টা করেন। এই ঘটনার পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অঞ্চল। রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয়রা।,

যদিও বিজেপি নেতা শান্তনু মণ্ডল সংবাদমাধ্যমে দাবি করেছেন, তিনি অভিযুক্ত কাউকেই পালাতে সাহায্য করেননি।

তিনি বলেন, ‘আমরাই ঘটনা শোনার পরে আইসির কাছে গিয়ে নালিশ নথিভুক্ত করি। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে একজন ব্যক্তিকে আমরা শনাক্ত করি যাকে ওই বাচ্চাটিকে তুলে নিয়ে যেতে দেখা যায়। আমরাই তৎপরতার সঙ্গে তাকে ধরি এবং সে নিজের দোষ স্বীকার করে।’

এদিকে সোমবার প্রাথমিক ময়না তদন্তের রিপোর্ট এসেছে পুলিশের হতে, যেখানে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তার উপর ভিত্তি করে পকসো আইনে ধর্ষণের মামলা রুজু করেছে পুলিশ। যদিও প্রাথমিকভাবে রুজু হওয়া মামলায় ধর্ষণের উল্লেখ ছিল না।,

ঘটনার তদন্তে ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি গঠন করেছে পুলিশ। তবে রোববার রাতের এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে বারুইপুর থানা পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।,

তবে এলাকায় পরিস্থিতি এখনও থমথমে। নতুন অশান্তি ঠেকাতে ইতোমধ্যেই ওই অঞ্চলে ১৪৪ ধারা জারি করে পাঁচজনের বেশি জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পুলিশ।

এদিকে নির্যাতিতার পরিবারকে ন্যায় বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ঘটনার পরই তিনি নির্যাতিতা কিশোরীর বাবার সঙ্গে ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছেন।

শুভেন্দু বলেন, আমি কালকেই ওই কিশোরীরর বাবার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি এই জঘন্যতম ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চেয়েছেন। আমি তদন্তের মাঝপথে বিস্তারিত কিছু বলব না, তবে এটুকু নিশ্চিত করছি, পরিবার যেভাবে ন্যায় বিচার চেয়েছে এবং সরকারের কাছ থেকে যে সহযোগিতা চেয়েছে, তার প্রত্যেকটি তারা পাবেন।’

রেঞ্জের আইজি কঙ্করপ্রসাদ বারুই জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজ্য পুলিশের সদর দফতরে পরিবারটির সঙ্গে দেখা করবেন মুখ্যমন্ত্রী।

অন্যদিকে এই ঘটনায় যখন উত্তাল অবস্থা বারুইপুরে, তখন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপ্যায় ঘটনাস্থলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা অভিযোগ করেন, মমতার বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন করে ঘটনাস্থলে যেতে তাকে বাধা দেওয়া হয়েছে।,

মমতার কালীঘাটের বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েনের ছবি পোস্ট করেন সংসদ সদস্য ডেরেক ও'ব্রায়েন।

তৃণমূলের আরেক সাংসদ দোলা সেন কালীঘাট থেকে বলেন, ‘সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে গৃহবন্দি করে রাখার পরিস্থিতি তৈরি করেছে পুলিশ প্রশাসন। প্রায় জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। এত দিনের অভিজ্ঞ একজন রাজনীতিবিদকে এভাবে আটকে রাখা হলো কেন সেই উত্তর আমরা পুলিশ প্রশাসনের থেকে জানতে চাই।’

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিজেপি সরকারের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, মমতাকে গৃহবন্দি করার অভিযোগ মিথ্যা। তবে অন্যান্য তৃণমূল নেতার মতো তাকেও যাতে ডিম ছুড়ে না মারা হয়, তার সেই সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন।,



banner close
banner close