যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপাঞ্চল গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে ঘণ্টায় প্রায় ২৯০ কিলোমিটার বেগের বাতাস নিয়ে আঘাত হেনেছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’। এ পর্যন্ত টাইফুনটির আঘাতে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
সোমবার (৬ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘণ্টায় প্রায় ২৯০ কিলোমিটার গতির বাতাস এবং ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩৫০ কিলোমিটার বেগের দমকা হাওয়াসহ ঝড়টি গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের ওপর দিয়ে অতিক্রম করছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা (এনডব্লিউএস)।
এনডব্লিউএস সতর্ক করে বলেছে, ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ এই ঝড় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হতে পারে। পাশাপাশি সমুদ্রে প্রায় ১১ মিটার উচ্চতার ঢেউ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড় পর্যবেক্ষণ সংস্থা জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার (জেটিডব্লিউসি) ‘বাভি’কে সুপার টাইফুন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। সাধারণত ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটারের বেশি গতির বাতাস থাকলে কোনো টাইফুনকে সুপার টাইফুন হিসেবে গণ্য করা হয়। এনডব্লিউএসের মতে, এর ধ্বংসক্ষমতা ক্যাটাগরি-৪ বা ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনের সমতুল্য।
এদিকে, সুপার টাইফুনের প্রভাবে চীনের হাইনান প্রদেশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
এর আগে আবহাওয়াবিদ মার্কাস ল্যান্ডন আইডল জানান, রোটার উত্তরে অবস্থিত সাইপান দ্বীপের বিমানবন্দরে ঘণ্টায় ১৬১ কিলোমিটারের বেশি বেগের দমকা হাওয়া রেকর্ড করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত এপ্রিলে সুপার টাইফুন সিনলাকু গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানার পর অনেক এলাকায় এখনও বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ওই ঝড়ে ১৭ জন নিহত হন এবং প্রায় ১৫০ কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানা ক্যাটাগরি-৪ বা ক্যাটাগরি-৫ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে এটি একাদশ। এর আগে টানা ৫৭ বছরে এ ধরনের শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা ছিল ১০টি।
সূত্র: বিবিসি
আরও পড়ুন:








